নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গতকাল শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে এই ব্যবস্থা নেয়া হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১৫ আগস্টের জাতীয় ছুটি বাতিলের পর এই দিনটিতে ধানমন্ডি ৩২ এলাকার চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং বিগত বছরগুলোর তুলনায় জনশূন্য। ধানমন্ডি থানা সূত্রমতে, ৩২ নম্বর থেকে বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানার আনা হলেও একজনকে রেখে বাকিদের ছেড়ে দেয়া হয়। আটক ব্যক্তির একজনের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে আদালতে পাঠানো হয়।
দিনটি উপলক্ষে গতকাল ভোর থেকেই রাজধানীর প্রতিটি প্রবেশপথে পুলিশি ব্যারিকেড বসানো হয়। ধানমন্ডি ৩২-এর প্রধান সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয় এবং সাধারণ পথচারীদেরও ওই এলাকা দিয়ে চলাচল করতে দেয়া হয়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের পাশাপাশি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন রয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় সেখানে জলকামান প্রস্তুত রাখা হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোন দিয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল ধানমন্ডি ৩২ এলাকা থেকে আটক চারজনের মধ্যে টাঙ্গাইলের অর্ণব দাস নিজেকে যুবলীগ কর্মী পরিচয় দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন। এ ছাড়া নিপু মিয়া নামে অপর এক ব্যক্তি সাংবাদিকের পরিচয় দিয়ে সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকেও আটক করা হয়। ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আটককৃতদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
অন্য দিকে ধানমন্ডি ৩২-এর প্রবেশপথে কিছু উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নিজেকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দেয়া ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ (এসডিএফ)-এর একদল সদস্যের বিরুদ্ধে কয়েকজনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এক রিকশাচালক মোবাইলে ভিডিও ধারণ করায় তাকে এবং ‘জয় বাংলা’ সেøাগান দেয়া ও শিঙাড়া বিলি করার অভিযোগে আরো দু’জনকে মারধর করা হয়। পরবর্তীতে সাংবাদিকদের তোপের মুখে ওই গ্রুপের সদস্যরা স্থান ত্যাগ করেন।
এ দিকে র্যাব জানিয়েছে, নাশকতার ঝুঁকি এড়াতে সারা দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠন, চরমপন্থী গোষ্ঠী এবং অপরাধীদের গতিবিধির ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তি রোধে র্যাবের সাইবার পেট্রোলিং সক্রিয় রয়েছে।
বর্তমানে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের সেই ঐতিহাসিক বাড়িটি কেবলই এক ধ্বংসস্তূপ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের পর বাড়িটিতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি ও ডিসেম্বরে আরো কয়েক দফা হামলার ফলে বাড়িটির অবশিষ্ট অংশও ধ্বংস হয়ে যায়। বর্তমানে বাড়ির মূল কাঠামো থেকে শুরু করে লাইব্রেরি, অডিটোরিয়াম ও গ্যালারি সবই ধ্বংসপ্রাপ্ত।



