প্রতি বিশ্বকাপে কি পাওয়া যাবে হলান্ডকে

Printed Edition

রফিকুল হায়দার ফরহাদ কানাডা থেকে

লিওনেল মেসি ২০০৬ সালে তার অভিষেকের বিশ্বকাপে করেছিলেন ১ গোল। অবশ্য তখন তিনি উঠতি খেলোয়াড়। সার্বিয়ার বিপক্ষে নামানো হয়েছিল বদলি হিসেবে। ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে ডেবু ঘটিয়ে করেন ৪ গোল। সেখানে আর্লিং হলান্ড বিশ্বকাপে খেলছেন এবারই। এই এক আসরেই তিনি অভিষেকের বিচারে পেছনে ফেলেছেন মেসি ও এমবাপ্পেকে। অবশ্য মেসির মতো এমবাপ্পেরও অভিষেকের বিশ্বকাপে খেলা বদলি পরিচয়ে। সেখানে হলান্ড নরওয়ে দলের আক্রমণভাগের মূল ভরসা। তাকে রিজার্ভ বেঞ্চে রাখার প্রশ্নই আসে না। যদিও ফ্রান্সের বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচে বিশ্রাম দিতেই খেলানো হয়নি। ৪ ম্যাচে ৭ গোল করে তিনি এখন ছুয়ে ফেলেছেন মেসি ও এমবাপ্পেকে। তাদের সাথেই লড়ছেন গোল্ডেন বুট জেতার লড়াইয়ে।

গোল মেশিন বলা হয় এই দীর্ঘদেহী স্ট্রাইকারকে। এবার এক বিশ্বকাপেই তিনি যেভাবে গোলের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন, আগামী কয়েক বিশ্বকাপে তাকে পাওয়া গেলে মনে হয় কোনো রেকর্ডই আর নাগালের বাইরে যাবে না। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের তো ২ গোল দিয়ে একাই ধসিয়ে দিলেন তিনি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে তাকে কি পাওয়া যাবে আগামী কয়েক বিশ্বকাপে। প্রশ্নটা এ কারণেই, বিশ্বকাপে তো নিয়মিত নয় তার দেশ নরওয়ে। এ নিয়ে মাত্র চারবার বিশ্বকাপে খেলা। ১৯৩৮, ১৯৯৪, ১৯৯৮ ও ২০২৬। এবার তাদের ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে আসা। এসেই গড়েছে ইতিহাস। ব্রাজিলের বিপক্ষে ২-১ গোলে জয় নিয়ে পৌঁছে গেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। বিশ্বকাপে নিয়মিত ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড, স্পেন। ১৯৯৮ সাল থেকে ফ্রান্সও নিয়মিত বিশ্বকাপে। সেখানে নরওয়ে কালে-ভদ্রে চান্স পায় গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে। দল যদি বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে না পারে, তাহলে হলান্ডের গোলের রেকর্ডও করা হবে না। এখন নরওয়ে কি পারবে শেষ আটের ম্যাচে ইংল্যান্ড বাধা টপকে আরো এগিয়ে যেতে। সে সাথে ২০৩০, ২০৩৪ ও ২০৩৮ এর বিশ্বকাপে খেলার ছাড়পত্র পেতে।

টানা ছয় বিশ্বকাপ খেলে ২০ গোল মেসির। পরপর তিন বিশ্বকাপে প্রতিনিধিত্ব করে এমবাপ্পে তার নামের পাশে জমা করেছেন ১৯ গোল। সেখানে এক বিশ্বকাপেই হলান্ডের ৭ গোল। নরওয়ের জার্সিতে এ পর্যন্ত ৫৪ ম্যাচে ৬২ গোল করেছেন। নরওয়েকে আগামী বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করানোর জন্য দায়িত্বটা তাকেই নিতে হবে। যেমনটাই এবারের বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে করেছেন। দলকে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডা বিশ্বকাপে আনতে ৮ ম্যাচে করেছেন ১৬ গোল। উয়েফা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তিনিই ছিলেন সর্বোচ্চ গোলদাতা। প্রতি ম্যাচেই জালের সন্ধান পেয়েছেন। এর মধ্যে ৫ গোল করেছিলেন মলদোভার বিপক্ষে। হ্যাটট্রিক ছিল ইসরাইলের বিপক্ষেও।