মুহা: আব্দুল আউয়াল রাজশাহী
করোনা মহামারীর সময় জরুরি অক্সিজেনের চাহিদা মেটাতে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে প্রায় দুই কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা পিএসএ (চৎবংংঁৎব ঝরিহম অফংড়ৎঢ়ঃরড়হ) অক্সিজেন জেনারেটর প্ল্যান্ট চালুর মাত্র ১১ মাসের মাথায় বিকল হয়ে পড়ে। এরপর প্রায় চার বছর পার হলেও প্ল্যান্টটি আর সচল হয়নি। ফলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রতি মাসে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে তরল অক্সিজেন কিনতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে গ্লোবাল ফান্ডের অর্থায়নে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কেন্দ্রীয় ঔষধাগার (সিএমএসডি) প্রকল্পের আওতায় ঢাকার আনিফকো হেলথ কেয়ার প্ল্যান্টটি স্থাপন করে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, এ ধরনের প্ল্যান্টের জন্য তারা কোনো চাহিদাপত্র দেয়নি। এর আগেই হাসপাতালে ভ্যাকুয়াম ইনসুলেটেড (ভিআই) ট্যাংকের মাধ্যমে তরল অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা চালু ছিল, যা চাহিদা পূরণে সক্ষম ছিল।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, প্ল্যান্টটির সাথে প্রয়োজনীয় ব্যাকআপ জেনারেটর ও দক্ষ টেকনিশিয়ান দেয়া হয়নি। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় প্ল্যান্ট বন্ধ হয়ে গেলে আবার চালু করতে জটিলতা দেখা দিত। নিরাপত্তাজনিত কারণে মূল অক্সিজেন লাইনের সাথে সংযুক্ত না করে পরীক্ষামূলকভাবে হাসপাতালের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে এর সংযোগ দেয়া হয়।
হাসপাতাল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৬ আগস্টের পর প্ল্যান্টটি সম্পূর্ণ অচল হয়ে যায়। এরপর একাধিকবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে মেরামতের জন্য জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে ব্যয়বহুল এই চিকিৎসা সরঞ্জাম দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত রয়েছে।
সম্প্রতি বিষয়টি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে। মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ গ্লোবাল ফান্ডের অর্থায়নে স্থাপিত অক্সিজেন প্ল্যান্টগুলোর কার্যকারিতা মূল্যায়নে একটি কারিগরি দল গঠন করে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহযোগিতা দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেয়। পরে প্ল্যান্টটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সিএমএসডিকেও অবহিত করা হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল সভায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান একাধিকবার পরিদর্শন করে মেরামতের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।
হাসপাতালে প্রতিদিন শত শত রোগীর চিকিৎসায় অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্ল্যান্টটি সচল থাকলে তরল অক্সিজেন কেনার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হতো। কিন্তু এটি অচল থাকায় প্রতি মাসে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে অক্সিজেন সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের মতে, প্রয়োজন যাচাই ছাড়া ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতি স্থাপন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবল নিশ্চিত না করা এবং রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতির কারণে প্রকল্পটি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। তাদের মতে, সরকারি অর্থে কেনা গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জাম দীর্ঘদিন অচল থাকার কারণ অনুসন্ধান করে দায় নিরূপণ এবং দ্রুত প্ল্যান্টটি সচল করার উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলাম, সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা: আবু তালেব এবং পরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারীর সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হাসপাতালের উপপরিচালক ডা: হাসানুল হাছিবও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।



