ক্রীড়া প্রতিবেদক যুক্তরাষ্ট্র থেকে
মেটলাইফ স্টেডিয়ামের এক পাশে চলছিল স্পেনের শিরোপা উৎসব। ঠিক তখনই এক দল ইলেকট্রনিকস মিডিয়া কর্মীকে ছুটতে হলে মাঠের অন্য প্রান্তে। কারণ সেখানে আর্জেন্টিনা ফুটবল দল তাদের হাজার হাজার সমর্থকের সাথে শেষ দেখা করতে গেছে। ফাইনালে হতাশাজনক পারফরম্যান্স। বিশ্ব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার বদলে তা হাতছাড়া। কিন্তু মাঠে উপস্থিত আর্জেন্টিনার সমর্থকরা এর পরও ছেড়ে যায়নি তাদের খেলোয়াড়দের। কিংবা হতাশায় গালমন্দও নয়; বরং তারা গান গেয়ে গেয়ে সান্ত¡না দিতে থাকে মেসিদের-এমিলিয়ানো মার্টিনেজদের।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ৮০ হাজার ৬৬৩ জন দর্শকের মধ্যে বলতে গেলে ৭০ হাজারই ছিল আর্জেন্টিনার দর্শক। মাঠের বাইরে টিকিট না পাওয়া আরো কয়েক হাজার ল্যাতিন দেশটির ভক্ত। এই দর্শকদের হতাশায় ডুবতে হলো ব্রাজিলের মারাকানা স্টেডিয়ামে ২০১৪ সালের ফাইনালের মতোই। সেখানেও জার্মানির কয়েক হাজার দর্শকের বিপরীতে আর্জেন্টিনার দর্শক ছিলেন ৬০ হাজারের মতো। উল্লেখ্য, মারাকানা স্টেডিয়ামের দর্শক ধারণক্ষমতা ৭৮ হাজার ৮৩৮।
ফাইনাল শেষে গ্যালারির এক দিকে ছুটে যান আর্জেন্টিনার সব ফুটবলার। সেখানে সমর্থকদের সাথে কিছুক্ষণ ছিলেন।
কিন্তু উত্তর দিকের গোলপোস্টের পেছনে হাজার হাজার আর্জেন্টিনাইন। তারা হারের পরও ক্রমাগত গান গেয়ে আর হাতে জার্সি ও মাফলার নাড়িয়ে নাড়িয়ে গান গেয়ে যাচ্ছিলেন। ড্রেসিং রুমে ফেরার আগে লিওনেল মেসি তার পুরো দল নিয়ে সেখানে যান। এরপর সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন অনেকক্ষণ। ঠিক বক্সের বাইরে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন মাথা নত করে। আর সমর্থকরা তাদের উৎসাহ দিয়ে, আগামীতে ভালো করার প্রেরণা দিয়ে গান গাইতে থাকে। প্রায় ১০ মিনিটের মতো তারা মেসিরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এরপর হেঁটে হেঁটে চলে যান ড্রেসিং রুমে।
ফুটবলপাগল জাতি ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, স্পেন, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি সবাই। তবে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা বা কলম্বিয়ার মতো এতটা পাগলাটে সমর্থক অন্যদের পাওয়া যাবে না। স্পেন ফাইনালে উঠেছে। চ্যাম্পিয়নও হলো। কিন্তু তাদের কয়েকজন দর্শক উপস্থিত ছিলেন মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। বড়জোর কয়েক হাজার। সেখানে আর্জেন্টিনার সমথর্কই বেশি।
ঠিক যেমনটি কাতার বিশ্বকাপ ও ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের ফাইনালে হয়েছিল। গ্যালারিতে আর্জেন্টনাইদের বেশির ভাগ উপস্থিতি। আবার ২০১৮ রাশিয়ার বিশ্বকাপের ফাইনাল। ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার সেই ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন ফরাসি দর্শক কয়েকজন আর উপস্থিত ছিলেন? কোনোভাবেই তা ১০ হাজারের বেশি হবে না। ক্রোয়েশিয়ার সমর্থকও বলতে গেলে তেমনই। বাকিরা সাধারণ দর্শক। স্পেন, জার্মানি, ফ্রান্স, কিংবা ক্রোয়েশিয়ার চেয়ে কত ব্যতিক্রম এই ল্যাতিন সমর্থকরা। দল ফাইনালে গেলে তারা ছুটে আসবেই। ব্রাজিল অবশ্য ২০০২ সালের পর আর ফাইনালে খেলতে পারেনি। কিন্তু অন্য ম্যাচগুলোতে তারা মাতিয়ে রাখে মাঠ। সমর্থন দিতে থাকে পুরো দলকে।
আর্জেন্টিনার এসব সমর্থক অনেক টাকা খরচ করেই ফাইনালের টিকিট কেটে ছিলেন। এক সমর্থক জানান, তিনি আট হাজার ডলার দিয়ে ফাইনালের আগের দিন এই টিকিট কিনে ছিলেন। তবে এসব অন্ধভক্তের জন্য এবার মেসি বাহিনী পারেনি বিশ্বকাপটা উপহার দিতে। বাজে খেলে লজ্জাই দিলো পুরো দেশবাসীকে।



