নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৪৭

Printed Edition
নেপালের নুয়াকোট জেলার ত্রিশুলিতে আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ধসের পর কাদাভেজা রাস্তা পেরোতে এক নারীকে সাহায্য করছেন এক উদ্ধারকর্মী  : ইন্টারনেট
নেপালের নুয়াকোট জেলার ত্রিশুলিতে আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ধসের পর কাদাভেজা রাস্তা পেরোতে এক নারীকে সাহায্য করছেন এক উদ্ধারকর্মী : ইন্টারনেট

বিবিসি ও এএফপি

নেপাল ও তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে আঘাত হানা বিধ্বংসী আকস্মিক ঢল ও পাহাড়ি ধসে প্রাণহানির ঘটনা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিপর্যয়ের ৪৮ ঘণ্টা পার হতে না হতেই মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে বেড়ে অন্তত ৫৪৭ জনে পৌঁছেছে বলে গতকাল শুক্রবার নেপাল পুলিশের বরাতে গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে।

বুধবার সকালে হিমালয় সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় হঠাৎ প্রবল বেগে কাদা, পাথর ও পানি মিশ্রিত পাহাড়ি ঢল ধেয়ে আসে। উদ্ভূত দুর্যোগে শত শত বিদেশী পর্যটকসহ এক হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। অন্য দিকে তিব্বত অংশে আরো পাঁচজনের মৃত্যু এবং ৫৫৮ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ থাকার কথা জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় মাধ্যম। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া এলাকায় দ্বিতীয় দফায় নতুন করে বন্যা আঘাত হানতে পারে- এমন আশঙ্কায় উদ্ধারকারীরা চরম উৎকণ্ঠা ও সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন বলে রেডক্রসের এক কর্মকর্তা জানান। বেইজিং থেকে বিবিসির প্রতিনিধি জানিয়েছেন, দুই দেশের সীমান্তের কাছে নতুন করে বিপুল পানি জমে একটি বিশাল হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে, যা উপচে পড়ে ফের বড় ধরনের প্লাবন ঘটানোর প্রবল ঝুঁকি তৈরি করেছে।

এদিকে দুর্যোগের ধারাবাহিকতায় চীন-নেপাল সীমান্তঘেঁষা জিরং স্থলবন্দর এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে বেইজিং। বুধবারের দুর্যোগে সৃষ্ট কৃত্রিম জলাশয়ে গত ৪৮ ঘণ্টায় আশঙ্কাজনকভাবে পানির স্তর বেড়েছে। যেকোনো মুহূর্তে এই বাঁধ ভেঙে বিপুল কাদা, পাথর ও প্রবল স্রোত নেমে আসার ঝুঁকি দেখা দেয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি গতকাল শুক্রবার সকালে জানায়, জলাশয়টি উপচে অনবরত পানি পড়তে শুরু করায় মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত জিরং বন্দরের দিকে উদ্ধারকারীদের এগিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সেখানে কর্মরত সিসিটিভির এক সাংবাদিক জানান, সম্মুখভাগের জরুরি নির্দেশনার কারণে তাদের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিতে হয়েছে। সংবাদমাধ্যমটি আরো জানায়, উদ্ধারকারীদের বেশিরভাগ সদস্য বর্তমানে সীমান্ত থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার (৪.৩৫ মাইল) দূরে জিরং শহরের লাওজিয়াং গ্রামের প্রবেশমুখে অবস্থান করছেন।

ভূ-বিজ্ঞানীরা স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, নেপালের লাংটাং লিরুং পর্বতের উত্তরাঞ্চলীয় ঢাল থেকে বিশাল বরফ ও পাথরের ধস নেমে লহেন্দেখোলা নদীতে আছড়ে পড়ে। এতে নদীর প্রবাহ আটকে তৈরি হয় অস্থায়ী প্রাকৃতিক বাঁধ। পরবর্তীতে সেই বাঁধ ভেঙে জমে থাকা বিপুল পানি, বরফ ও কাদার স্রোত প্রবল বেগে নিচের দিকে নেমে এসেই এই প্রলয়ঙ্করী বিপর্যয় ঘটায়।