চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে কনফিডেন্স সল্ট কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন। তাদের সবাইকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। দগ্ধদের বেশির ভাগেরই শ্বাসনালী পুড়ে গেছে এবং তাদের মধ্যে পাঁচ থেকে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বোয়ালখালী পৌরসভার পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকায় অবস্থিত কারখানাটিতে এই ঘটনা ঘটে।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আলাউদ্দিন নয়া দিগন্তকে জানান, কারখানায় পাইপ ফিটিংস এবং ঝালাইয়ের কাজ করার সময় হঠাৎ বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে সেখানে কর্মরত শ্রমিকরা দগ্ধ হন। তাদেরকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।
তিনি আরো জানান, দগ্ধদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরের বড় অংশ পুড়ে গেছে। বিশেষ করে পাঁচ থেকে ছয়জনের অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটাপন্ন। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
দগ্ধ শ্রমিকরা হলেন- বোয়ালখালীর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দিদারুল আলম (৩২), রাঙ্গুনিয়ার পোমরা এলাকার উজ্জ্বল দাশ (৫৩), নগরের মাদারবাড়ি এলাকার মোহাম্মদ লিটন (২৮), লোহাগাড়ার চুনতীর সিরাজুল ইসলাম (৩৪), রাউজানের মোহাম্মদপুর এলাকার জাহিদুল আলম (৪২), বোয়ালখালীর পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকার জাহিদ হোসেন (৩৮), বোয়ালখালীর চর খিজিরপুর এলাকার নূর নবী (২৫), পটিয়ার হুলাইন এলাকার মোহাম্মদ আলম (৪৫), পটিয়ার শান্তিরহাট এলাকার মাহমুদুল হক (৪৫) এবং চন্দনাইশের কাঞ্চননগর এলাকার সেলিম উদ্দিন (৩০)।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দিদারুল আলমের শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ, মোহাম্মদ আলমের ৬৫ শতাংশ, মাহমুদুল হকের ৬০ শতাংশ, উজ্জ্বল দাশের ৫০ শতাংশ, নূর নবীর ৪৫ শতাংশ, লিটনের ৪০ শতাংশ, জাহিদুল আলমের ৩৫ শতাংশ, সেলিম উদ্দিনের ২০ শতাংশ এবং জাহিদ হোসেন ও সিরাজুল ইসলামের শরীরের ১০ শতাংশ করে দগ্ধ হয়েছে।
বোয়ালখালী থানার ওসি মোহাম্মদ মোজাফফর হোসেন জানান, আগুনের পাশে থাকা কাগজ ও দাহ্য উপকরণে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় শ্রমিকরা বের হওয়ার আগেই দগ্ধ হন। তিনি বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে। কারখানাটিতে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, নিরাপত্তা বিধি অনুসরণ করা হয়েছিল কি না. এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



