বিশেষ কমিটি গঠন

বোতলজাত ‘শান্তি’ পানির উৎপাদন ৪ গুণ করবে ঢাকা ওয়াসা

খালিদ সাইফুল্লাহ
Printed Edition

রাজধানীতে সাশ্রয়ী মূল্যে নিরাপদ বোতলজাত পানি সরবরাহে ঢাকা ওয়াসার উৎপাদিত ‘শান্তি’ পানির উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধি, বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা তৈরি এবং প্লান্টকে চার গুণ লাভজনক করতে পরিকল্পনা নিয়েছে সংস্থাটি। এজন্য দায়িত্ব নিয়েই এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছেন ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)।

জানা যায়, ঢাকা ওয়াসার শান্তি পানি উৎপাদন প্ল্যান্টটি ২০০৬ সালের জুলাইয়ে মাসে মিরপুরে নির্মাণ শুরু হয় এবং একই বছরের সেপ্টেম্বর থেকে উৎপাদন চালু করে। প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত এই প্ল্যান্টটির মূল উদ্দেশ্য ছিল বাজারে পানির দাম হঠাৎ বৃদ্ধি প্রতিরোধ এবং জনসাধারণের কাছে সুলভ মূল্যে নিরাপদ ও বিশুদ্ধ বোতলজাত পানি পৌঁছে দেয়া। এই প্ল্যান্টটি প্রতি ঘণ্টায় ১০ হাজার লিটার পানি শোধন এবং ছয় হাজার লিটার পানি বোতলজাত করতে সক্ষম। কিন্তু নানা কারণে ওয়াসার এ প্রকল্পটি এখন গলার কাটা হয়ে উঠেছে। বছরে এক থেকে দেড় কোটি টাকা লোকসানের শিকার হচ্ছে সংস্থাটি।

সাবেক সচিব আমিনুল ইসলাম গত ১০ মার্চ ঢাকা ওয়াসার এমডির দায়িত্ব নেয়ার নিয়োগ পর শান্তি পানি উৎপাদন প্ল্যান্টটি লাভজনক করার উদ্যোগ নিয়েছেন। গত ২ মে তিনি মিরপুরের ‘শান্তি’ বোতলজাত পানি প্ল্যান্ট এবং সংলগ্ন জোন অফিস পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি উৎপাদন বাড়ানো, বাজার সম্প্রসারণ এবং গ্রাহকসেবা উন্নত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। একই সাথে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় জড়িত থাকায় দুই কর্মকর্তাকে অপসারণের আদেশ দেন। সেই সাথে ‘শান্তি’ পানির উৎপাদন আরো বৃদ্ধি এবং প্ল্যান্টকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কী কী পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন, তা নির্ধারণে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে দেন। কমিটিকে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক বিপণন কৌশল, পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নতুন বাজার সৃষ্টির বিষয়ে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ‘শান্তি’ পানির বিক্রি বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে। বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন বেসরকারি ব্র্যান্ডের বোতলজাত পানির উচ্চমূল্য নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ‘শান্তি’ পানি কম দামে সরবরাহ করে বাজারে নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি করতে চায় ঢাকা ওয়াসা। সংস্থাটি মনে করছে, উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ানো গেলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ‘শান্তি’ পানির গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। বিশেষ করে সরকারি অফিস, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে এই পানি সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

ওয়াসা কর্মকর্তারা বলছেন, ‘শান্তি’ পানির গুণগত মান ভালো এবং দাম তুলনামূলক কম হলেও পর্যাপ্ত প্রচার ও বাজারজাতকরণের অভাবে এর চাহিদা প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, কার্যকর বিপণন, শক্তিশালী ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক এবং জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে ‘শান্তি’ পানি বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।