কল্পনার মাঠে বিশ্বকাপ উপভোগ করেন রাবির ৪ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী

Printed Edition

ফজলে রাব্বি পরশ রাবি

বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই কোটি দর্শকের চোখ টেলিভিশন বা বড় পর্দায়। তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বকাপের আনন্দের মাধ্যম ভিন্ন। তারা ধারাভাষ্য, দর্শকদের উল্লাস, বন্ধুদের বর্ণনা এবং কল্পনার শক্তির মাধ্যমে ফুটবলের প্রতিটি মুহূর্ত অনুভব করেন।

চলমান বিশ্বকাপ ঘিরে অন্য শিক্ষার্থীদের মতো দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মধ্যেও রয়েছে ব্যাপক উৎসাহ। তাদের কাছে ফুটবল কেবল দৃশ্যের খেলা নয়, বরং শব্দ, অনুভূতি ও আবেগের এক অনন্য অভিজ্ঞতা। ধারাভাষ্যের প্রতিটি বর্ণনা, গ্যালারির উচ্ছ্বাস এবং গোলের মুহূর্তের প্রতিক্রিয়া তাদের মনে পুরো ম্যাচের চিত্র ফুটিয়ে তোলে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ওসামা হোসেন নাহিদ বলেন, সীমিত দৃষ্টিশক্তি থাকলেও তিনি বড় পর্দার সামনে বসে যতটা সম্ভব খেলা উপভোগ করেন। তার ভাষায়, ফুটবল শুধু দেখার নয়, অনুভবেরও বিষয়।

একই বিভাগের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান বলেন, রেফারির বাঁশি, ধারাভাষ্য এবং দর্শকদের প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে তারা ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্ত কল্পনা করেন। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আলিফ বলেন, অনেক দৃশ্য অন্যদের বর্ণনার মাধ্যমে বুঝতে হলেও ফুটবলের প্রতি তার ভালোবাসা অটুট। ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী নাইম হোসেন জানান, ধারাভাষ্যের উত্তেজনাপূর্ণ বর্ণনা শুনে তার মনে হয়, তিনিও যেন গ্যালারিতে বসে খেলা দেখছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাবরিনা সুলতানা বলেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা শ্রবণ, আশপাশের মানুষের প্রতিক্রিয়া ও কল্পনার সমন্বয়ে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। ভবিষ্যতে অডিও ডিসক্রিপশনসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে তাদের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসর উপভোগ করা আরো সহজ ও সমৃদ্ধ হবে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের এই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে, ফুটবলের আনন্দ কেবল চোখে দেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; অনুভূতি, কল্পনা ও ভালোবাসাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।