মিডল ইস্ট মনিটর
মার্কিন সিনেট এমন একটি আইন পাসের কথা বিবেচনা করছে যা দেশটির প্রেসিডেন্টকে ইসরাইলের সাথে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বাড়াতে বাধ্য করবে। একইসাথে মার্কিন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ইসরাইলি গুপ্তচরবৃত্তি নিয়ে ওয়াশিংটনে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যেও ইসরাইলের জন্য আমেরিকার গোপন তথ্যে প্রবেশাধিকার সীমিত করার বিষয়টি যেকোনো মার্কিন প্রশাসনের জন্য কঠিন করে তুলবে।
২০২৭ অর্থ বছরের গোয়েন্দা অনুমোদন আইনের ৬২২ ধারা যার শিরোনাম ‘যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বৃদ্ধি’, সেটির আওতায় প্রেসিডেন্টের জন্য জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক এবং প্রয়োজনে প্রতিরক্ষা সচিবের মাধ্যমে ‘ইসরাইল সরকারের সাথে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় সম্প্রসারণ ও বৃদ্ধি’ করা বাধ্যতামূলক হবে। কংগ্রেসে ইসরাইলের অন্যতম কট্টর সমর্থক এবং সিনেট গোয়েন্দা কমিটির রিপাবলিকান চেয়ারম্যান সিনেটর টম কটন এই বিলটি উত্থাপন করেন। এই আইনের আওতায় সাইবার হুমকি, সন্ত্রাসবাদ, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা, ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি, ড্রোন, আকাশ প্রতিরক্ষা এবং বিভিন্ন দেশের সরকার ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর পরিকল্পনাসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত পরিসরের গোয়েন্দা তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সমালোচকদের মতে, এর ফলে ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ইস্যুগুলোতে আমেরিকার সংবেদনশীল মূল্যায়নগুলো আরো ব্যাপকভাবে জানার সুযোগ পাবে।
এই পদক্ষেপের ফলে কোনো প্রেসিডেন্টের পক্ষে ইসরাইলের সাথে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় স্থগিত, হ্রাস বা সীমিত করা কঠিন হয়ে পড়বে। বিল অনুযায়ী, তথ্য বিনিময় হ্রাস করতে হলে তা অবশ্যই একটি ‘নির্দিষ্ট এবং শনাক্তকরণযোগ্য জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের’ ওপর ভিত্তি করে হতে হবে। এরপর হোয়াইট হাউজকে ১৫ দিনের মধ্যে কংগ্রেসকে অবহিত করতে হবে এবং ব্যাখ্যা করতে দিতে হবে যে কী তথ্য আটকে রাখা হয়েছে, কেন তা সীমিত করা হয়েছে এবং এই সিদ্ধান্ত ইসরাইল, মার্কিন বাহিনী ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে। সিআইএ-এর সাবেক কর্মকর্তা পল আর পিলার রেসপন্সিবল স্টেটক্রাফটে লিখেছেন যে, এই প্রস্তাবটি ইসরাইলের প্রতি মার্কিন সমর্থনকে গোয়েন্দা সহযোগিতার মতো একটি কম দৃশ্যমান জগতে নিয়ে যাবে। সামরিক সহায়তার মতো গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের কোনো প্রকাশ্য আর্থিক হিসাব থাকে না এবং সাধারণ মানুষের পক্ষে এটি খতিয়ে দেখা বেশ কঠিন।
পিলার যুক্তি দিয়েছেন যে, কংগ্রেস সাধারণত এই ধরনের সম্পর্কের বিষয়ে আইন তৈরি করে না, কারণ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নিজেদের সিদ্ধান্ত নেয়ার নমনীয়তা প্রয়োজন যে তারা কোন তথ্য শেয়ার করবে, কোনটি আটকে রাখবে এবং কিভাবে তাদের তথ্যের উৎস রক্ষা করবে। এই প্রস্তাবটি এমন এক সময়ে এল যার কিছুদিন আগেই খবর বেরিয়েছে যে পেন্টাগনের ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি ইসরাইলের বিরুদ্ধে তাদের কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স হুমকির মূল্যায়নকে সর্বোচ্চ স্তর ‘ক্রিটিকাল’-এ উন্নীত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলের গুপ্তচরবৃত্তির এক দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে কুখ্যাত ঘটনাটি ছিল জোনাথন পোলার্ডের, যিনি মার্কিন নৌ গোয়েন্দা বিশ্লেষক হয়েও ইসরাইলের জন্য বিপুল পরিমাণ গোপন নথি চুরি করেছিলেন। পোলার্ডের কারণে আমেরিকার মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা বর্ণনা করলেও মুক্তির পর ইসরাইল তাকে বীরের মতো সম্মান জানায়।



