রংপুর ব্যুরো
জামায়াত এনসিপি এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মিলে বর্তমানে সরকার চালাচ্ছে। এদের অধীনে নির্বাচনও হচ্ছে। ফলে নির্বাচন ব্যবস্থায় কোনো রকম নিরপেক্ষতা থাকছে না বলে দাবি করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও রংপুর-৩ আসনের লাঙ্গলের প্রার্থী জিএম কাদের।
গতকাল সন্ধ্যায় রংপুর মহানগরীর সেন্ট্রাল রোডের দলীয় কার্যালয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর আগে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য আজমল হোসেন লেবু, এস এম ইয়াসিরসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
জিএম কাদের বলেন, একটা খারাপ পরিস্থিতিতে ভোট হচ্ছে। আমাদের লোকজনকে বিভিন্ন জায়গায় হুমকি দেয়া হচ্ছে। আমরা ভোটের মাঠে আছি। আমরা ভোট করার চেষ্টা করব। আমরা চাচ্ছি জাতীয় পার্টির ওপর যেন কোনোরকম বৈষম্য করা না হয়। আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যায়ভাবে আমাদের নির্বাচন থেকে বাইরে সরিয়ে দেয়া মেনে নেবো না। আমাদের নেতাকর্মীদের কাজ করতে দিতে হবে। আমরা দাবি করেছি আমাদের নেতাকর্মীদের জামিন হওয়ার পর আর অন্য পুরনো মামলায় আর গ্রেফতার করবেন না। নতুনভাবে কোনো মামলা দিবেন না। যদি দিতে হয় সেটা আপনারা নির্বাচনের পরে দেখবেন। আমাদের নির্বাচনটা করতে দিন।
জিএম কাদের বলেন, ‘এনসিপির দাবি তারা বর্তমান সরকারের নিয়োগকর্তা। তাদের অভিভাবক হলো জামায়াত। তাদের এই দাবিকে এখনো পর্যন্ত কেউ অস্বীকার করেনি। জামায়াতে ইসলাম এবং এনসিপি হলো একটি সমন্বিত দল। এবং বর্তমান ইন্টিরিম গভর্মেন্ট মিলে এখন সরকার হয়েছে। এরা সরকার এবং সরকারি দল। এদের অধীনে নির্বাচন হচ্ছে। তাই অটোমেটিক্যালি আমরা দেখতে পাচ্ছি যে নির্বাচনব্যবস্থায় আর কোনো নিরপেক্ষতা থাকছে না। সরকারি দল এবং সরকার যখন একদল হয়ে নির্বাচন করে। সেখানে কিভাবে আমরা নিরপেক্ষতা আশা করতে পারি।
জিএম কাদের বলেন, ‘তথাপি যেহেতু আমাদের বাধা দেয়া হয়েছে। আমাদের রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আমাদেরকে বিভিন্নভাবে আওয়ামী লীগের দোসর বলে অন্যায়, অত্যাচার করা হয়েছে। সে কারণে আমরা নির্বাচন করছি।
জিএম কাদের বলেন, ‘গণভোটের হ্যাঁ ভোটের পক্ষে সরকার যেভাবে ইনভেস্ট করছেন। প্রভাব বিস্তার করছেন। জোর করে দখলের চেষ্টা করছেন, মানুষকে হুমকি দিচ্ছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যবহার করছেন। টাকা পয়সার ব্যবহার করছেন। তাই গণভোট ও ভোটের ফলাফল আমরা মেনে নিতে পারব না। আমরা বিশ্বাস করি এখানে কারচুপির মাধ্যমে হ্যাঁ ভোটকে জয়যুক্ত করে বর্তমান সরকার একটা প্যারালাল গভর্মেন্ট চালু করবে। তারা এটাকে বিপ্লবী সরকার হিসেবে ব্যবহার করবে। তারা ইচ্ছেমতো দেশ পরিচালনা করবেন। সংসদকে তারা বাধ্য করবেন তাদের কথা শোনার জন্য। এজন্যই সরকার হ্যাঁ না ভোট করছেন। এটা সাধারণ সরকার জানেন না।
পরে তিনি জিএলরায় রোড, পায়রা চত্বরসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করে লাঙ্গলের পক্ষে ভোট চান।



