নয়া দিগন্ত ডেস্ক
লেবার পার্টির নেতা অ্যান্ডি বার্নহাম যুক্তরাজ্যের ৫৯তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। রাজা তৃতীয় চার্লসের আমন্ত্রণে সোমবার বাকিংহাম প্যালেসে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের পর রাজা তৃতীয় চার্লসের সাথে সাক্ষাৎ করেন অ্যান্ডি বার্নহাম। এরপর যুক্তরাজ্যের সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী সরকার গঠনের আমন্ত্রণ গ্রহণ করে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। বাকিংহাম প্যালেস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রাজা বার্নহামকে সরকার গঠনের আহ্বান জানান এবং তিনি তা গ্রহণ করেন।
কয়েক মাস ধরেই ব্রিটিশ রাজনীতিতে প্রধানমন্ত্রী পদে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় ছিলেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম। কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের ঘোষণার পর সে জল্পনা আরো জোরালো হয়।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ২০০৯ সালের ‘হিলসবোরো ট্র্যাজেডি’ স্মরণসভাকে নিজের রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখেন বার্নহাম। লিভারপুলের অ্যানফিল্ড স্টেডিয়ামে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে বিক্ষোভের মুখে পড়ার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি পরে বলেছিলেন, সেদিনই মূলধারার সংসদীয় রাজনীতির প্রতি তার মোহভঙ্গ হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই অভিজ্ঞতাকেই তিনি নতুন রাজনৈতিক অবস্থান গড়ে তোলার ভিত্তি হিসেবে কাজে লাগান।
গত ৯ বছর গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে স্থানীয় সরকার, গণপরিবহন ও আঞ্চলিক উন্নয়নে নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি জাতীয় পর্যায়ে নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করেন। বিশেষ করে করোনা মহামারীর সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন সরকারের নীতির প্রকাশ্য সমালোচনা করে দেশজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। ম্যানচেস্টারের গণপরিবহন ব্যবস্থাকে সরকারি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং স্থানীয় অর্থনীতির উন্নয়নে ভূমিকার কারণে সমর্থকদের কাছে তিনি ‘উত্তরের রাজা’ নামে পরিচিতি পান।
মাত্র ১৪ বছর বয়সে লেবার পার্টিতে যোগ দেন বার্নহাম। তার বাবা ছিলেন টেলিফোন প্রকৌশলী এবং মা রিসেপশনিস্ট। পরবর্তীতে তিনি ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। টনি ব্লেয়ার ও গর্ডন ব্রাউনের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০১০ ও ২০১৫ সালে লেবার পার্টির নেতৃত্বের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সফল হননি। ২০১৭ সালে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের প্রথম মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন এবং ২০২১ সালে আরো বড় ব্যবধানে পুনর্নির্বাচিত হন।
লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষকদের মতে, ডানপন্থী রিফর্ম ইউকে ও বামপন্থী গ্রিন পার্টির দিকে ঝুঁকে পড়া ভোটারদের দলে ফেরাতে বার্নহামই সবচেয়ে যোগ্য নেতা। সেই প্রত্যাশার মধ্যেই তিনি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন।



