ধুঁকে ধুঁকে চলছে কোটালীপাড়ার ১০০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

Printed Edition
হাসপাতালে ২১ কনসালট্যান্টের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ৫ জন : নয়া দিগন্ত
হাসপাতালে ২১ কনসালট্যান্টের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ৫ জন : নয়া দিগন্ত

রনী আহম্মেদ কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ)

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত হলেও বাড়েনি স্বাস্থ্যসেবার মান। চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবলের ঘাটতি, অচল চিকিৎসা সরঞ্জাম, বন্ধ লিফট এবং অকেজো অ্যাম্বুলেন্সের কারণে হাসপাতালটি কার্যত সীমিত সক্ষমতায় চলছে। এতে প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সেবা নিতে আসা রোগীরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সিনিয়র ও জুনিয়র কনসালট্যান্টের ২১টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র পাঁচজন। মেডিক্যাল অফিসার ও সহকারী সার্জনের ৪২টি পদের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন ১০ জন। মাঠপর্যায়ের ৬৩টি পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ২৭টি। এসব শূন্যপদের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

দীর্ঘদিন ধরে গাইনি ও সার্জারি বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় অস্ত্রোপচারসেবা কার্যত বন্ধ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সিজারিয়ান অপারেশনের ব্যবস্থা থাকলেও নিয়মিত সেবা পাওয়া যায় না। ফলে রোগীদের গোপালগঞ্জ, খুলনা কিংবা ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।

হাসপাতালে এক্স-রে, আলট্রাসনোগ্রাফিসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি থাকলেও প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ানের অভাবে সেগুলোর অনেকগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এতে রোগীদের বাধ্য হয়ে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অতিরিক্ত খরচে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হচ্ছে।

২০২৩ সালে হাসপাতালে দু’টি লিফট স্থাপন করা হলেও লিফট অপারেটর না থাকায় সেগুলো এখন বন্ধ। ফলে বয়স্ক ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালের বিভিন্ন তলায় ওঠানামায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

৮৫ হাজার বর্গফুট আয়তনের হাসপাতালটিতে রাজস্ব খাতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী রয়েছেন মাত্র তিনজন। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নতুন জনবল নিয়োগ না হওয়ায় হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা রক্ষা কঠিন হয়ে পড়ছে। একইভাবে নিরাপত্তাকর্মী আছেন মাত্র একজন। ফলে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে চুরি ও সরঞ্জাম নষ্ট হওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

হাসপাতালের জন্য তিনটি অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ থাকলেও দু’টি দীর্ঘদিন ধরে বিকল অবস্থায় পড়ে আছে। সচল থাকা একটি অ্যাম্বুলেন্সও দূরপাল্লার রোগী পরিবহনে ব্যবহার করা যায় না। এতে জরুরি রোগী স্থানান্তরে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

এ ছাড়া প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত জেনারেটর থাকলেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় সেটি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায় না বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে লোডশেডিংয়ের সময় হাসপাতালের বিভিন্ন সেবা ব্যাহত হচ্ছে। অক্সিজেন সরবরাহের অবকাঠামো থাকলেও প্রয়োজনীয় সেবা নিয়ে রোগীদের অসন্তোষ রয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী বলেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স না থাকায় কাক্সিক্ষত সেবা পাওয়া যায় না। নোংরা পরিবেশ, বন্ধ লিফট, অচল যন্ত্রপাতি ও অ্যাম্বুলেন্সের কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান চান তারা।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: কুমার মৃদুল দাস বলেন, চিকিৎসক, নার্স, ল্যাব সহকারী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী ও আউটসোর্সিং জনবলের ঘাটতির কারণে হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধান হলে হাসপাতালের সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করা সম্ভব হবে।