বিদেশী সহায়তার প্রতিশ্রুতি ৩৭ শতাংশ কমেছে

বিশেষ সংবাদদাতা
Printed Edition
  • অর্থছাড় কমেছে ১৩.৩৩ শতাংশ, বেড়েছে ঋণ পরিশোধের চাপ
  • বিশ্বব্যাংক, এআইআইবি, জাপান ও চীনের ছাড় প্রতিশ্রুতির চেয়ে বেশি

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও বাজেট সহায়তায় বাংলাদেশকে দেয়া বিদেশী উন্নয়ন সহযোগীদের নতুন অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় ৩৭ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে প্রতিশ্রুতি অর্থের বিপরীতে প্রকৃত অর্থছাড়ও কমেছে ১৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। বিপরীতে বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের চাপ বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সোমবার প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে এসব চিত্র উঠে এসেছে। তবে বিশ্বব্যাংকের আইডিএ, এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি), জাপান ও চীন প্রতিশ্রুতির তুলনায় বেশি অর্থছাড় করেছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৭১টি চুক্তির আওতায় মোট ৫২৪ কোটি ৩৩ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২৮টি ঋণ ও ৪৩টি অনুদান চুক্তি রয়েছে। আগের অর্থবছরে প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ছিল ৮৩২ কোটি ৩৩ লাখ ৩০ হাজার ডলার। সে হিসাবে এক বছরে প্রতিশ্রুতি কমেছে ৩০৭ কোটি ৯৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার বা ৩৭ শতাংশ।

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে উন্নয়ন সহযোগীদের মোট অর্থছাড় হয়েছে ৮০৭ কোটি ৩১ লাখ ১০ হাজার ডলার, যার মধ্যে ঋণ ৭৫১ কোটি ৯১ লাখ ৬০ হাজার এবং অনুদান ৫৫ কোটি ৩৯ লাখ ৫০ হাজার ডলার। আগের অর্থবছরে মোট অর্থছাড় ছিল ৯৩১ কোটি ৫১ লাখ ২০ হাজার ডলার। ফলে অর্থছাড় কমেছে ১২৪ কোটি ২০ লাখ ১০ হাজার ডলার বা ১৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

সংস্থাভিত্তিক অর্থছাড়ের মধ্যে সর্বোচ্চ ২০৭ কোটি ৪৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার দিয়েছে বিশ্বব্যাংকের আইডিএ। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ছাড় করেছে ১৯১ কোটি ২ লাখ ৯০ হাজার ডলার। এ ছাড়া এআইআইবি ৬৯ কোটি ৩১ লাখ ৩০ হাজার, জাপান ৭৯ কোটি ৫৩ লাখ ২০ হাজার এবং চীন ৫৩ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার ছাড় করেছে। নতুন কোনো প্রতিশ্রুতি না দিলেও রাশিয়া ১০৪ কোটি ৬৭ লাখ এবং ভারত ২৭ কোটি ৮৬ লাখ ৬০ হাজার ডলার ছাড় করেছে।

ইআরডির তথ্যে আরো দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ মিলিয়ে বাংলাদেশকে পরিশোধ করতে হয়েছে ৪৪৯ কোটি ৪০ লাখ ৯০ হাজার ডলার। আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ৪০৮ কোটি ৬৯ লাখ ৩০ হাজার ডলার। অর্থাৎ এক বছরে ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ৪০ কোটি ৭১ লাখ ৬০ হাজার ডলার বা ৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ। এর মধ্যে সুদ পরিশোধ করা হয়েছে ১৫৪ কোটি ৪ লাখ ১০ হাজার ডলার এবং আসল পরিশোধ করা হয়েছে ২৫৯ কোটি ৩৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার।

ইআরডির তথ্যানুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাজেট সহায়তার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৮৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এর মধ্যে সর্বোচ্চ প্রতিশ্রুতি ছিল এডিবি, বিশ্বব্যাংক ও ইউরোপীয় উন্নয়ন অংশীদারদের।