জয়দেবপুর (গাজীপুর) সংবাদদাতা
গাজীপুরের জয়দেবপুরে বস্তা ও ব্রিফকেসে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত খণ্ডিত নারী দেহের পরিচয় শনাক্তের পর চাঞ্চল্যকর এই হত্যা রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
বিয়ে নিয়ে বিরোধের জেরে ডলি আক্তার (৩০) নামের এক পোশাককর্মীকে ঘুুমের
ওষুধ খাইয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ দ্বিখণ্ডিত করার অভিযোগে তার প্রেমিক, প্রেমিকের মা এবং এক বন্ধুকে গ্রেফতার
করা হয়েছে। আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।
নিহত ডলি আক্তার ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার মৃত বাদশা মিয়ার মেয়ে। তিনি গাজীপুরের বাঘেরবাজার এলাকার ‘গোল্ডেন রিপিট গার্মেন্টে’ সুইং অপারেটর হিসেবে চাকরি করতেন এবং মেম্বারবাড়ী এলাকায় ভাড়া থাকতেন।
পিবিআইয়ের তদন্ত অনুযায়ী, সহকর্মী হওয়ার সুবাদে বগুড়ার শিবগঞ্জের বাসিন্দা মো: মিশন ইসলামের (২২) সাথে ডলির প্রায় পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে ডলি গাজীপুর সদরের তুলসীভিটা এলাকায় মিশনের ভাড়া বাসায় যান। সেখানে বিয়ের দাবি ও সম্পর্কের নানাদিক নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে ডলিকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মিশন। কৌশল হিসেবে এলার্জির ওষুধের কথা বলে তাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয় এবং পরে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর দিন বিষয়টিতে যুক্ত হন মিশনের মা বানু আক্তার (৪৩)। লাশ গোপনে আড়াল করতে বটি দিয়ে শরীর থেকে খণ্ডিত অংশ আলাদা করা হয়। এরপর সেগুলো একটি স্যুটকেস ও প্লাস্টিকের বস্তায় ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে মিশনের বন্ধু মিজানুর রহমান ওরফে মিল্টনের (২৪) সহায়তায় অটোরিকশাযোগে খণ্ডিত দেহাংশ রাজেন্দ্রপুর হয়ে ভবানীপুর এলাকার মহাসড়কসংলগ্ন একটি ডোবার পানিতে ফেলে দেয়া হয়।
গত ১১ সেপ্টেম্বর স্থানীয়দের খবরে পুলিশ ভবানীপুর এলাকার ডোবা থেকে খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে। এরপর পিবিআই গাজীপুর জেলা আধুনিক প্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ এবং ক্রাইমসিন বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করে। ১২ সেপ্টেম্বর প্রথমে মিল্টনকে এবং পরবর্তীতে মিশন ও তার মা বানু আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। পিবিআই জানিয়েছে, আসামিদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত, নিহতের জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও জুতা উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআই গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো: রকিবুল আক্তার জানান, অজ্ঞাত পরিচয়ের লাশ শনাক্ত করাই প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল। গ্রেফতার তিন আসামিই ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। এ ঘটনায় অন্য কারো সম্পৃক্ততা আছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



