ধানের সবুজ ক্যানভাসে স্মৃতিসৌধ

উলিপুরে এক শিক্ষকের সৃজনশীল দেশপ্রেম

Printed Edition
ধানক্ষেতে সবুজ ক্যানভাসের স্মৃতিসৌধ 	: নয়া দিগন্ত
ধানক্ষেতে সবুজ ক্যানভাসের স্মৃতিসৌধ : নয়া দিগন্ত

মো: মুরাদ হোসেন মণ্ডল উলিপুর (কুড়িগ্রাম)

কুড়িগ্রামের উলিপুরে বিস্তীর্ণ ধানের মাঠ যেন হঠাৎ করেই রূপ নিয়েছে ইতিহাসের জীবন্ত ক্যানভাসে। সবুজের বুকে ফুটে উঠেছে মহান স্বাধীনতার প্রতীক জাতীয় স্মৃতিসৌধের অবয়ব। ব্যতিক্রমী এই শিল্পকর্মের নির্মাতা জাফর সাদিক নামে এক স্কুলশিক্ষক, যার সৃজনশীল দেশপ্রেমে মুগ্ধ এলাকাবাসী।

উলিপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাফর সাদিক বরাবরের মতো এবারো ভিন্নধর্মী উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন। বেগুনি রঙের বিশেষ জাতের ধানের চারা ব্যবহার করে তিনি তার ক্ষেতজুড়ে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন জাতীয় স্মৃতিসৌধের নকশা। এর আগে একই পদ্ধতিতে তিনি ধানক্ষেতে এঁকেছিলেন জাতীয় ফুল শাপলা, জাতীয় পতাকা এবং বাংলাদেশের মানচিত্র। প্রতিবারই তিনি তার সৃষ্ট শিল্পকর্মের মাধ্যমে চমকে দিয়েছেন স্থানীয়দের।

চলতি বোরো মৌসুমে প্রায় ১৭ বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান আবাদ করেছেন জাফর সাদিক। এর মধ্যে ব্রি ধান-১১৩ এর একটি অংশ বেছে নিয়ে তিনি তৈরি করেছেন এই অনন্য নকশা। কৃষিকাজের সাথে শিল্পচর্চার এমন মেলবন্ধন বিরল বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষকতা পেশা হলেও কৃষির প্রতি রয়েছে তার গভীর অনুরাগ। নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি নিজ জমিতে চাষাবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তবে এবারের উদ্যোগ কেবল কৃষিকাজে সীমাবদ্ধ নয়; এটি পরিণত হয়েছে নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করার এক অভিনব মাধ্যম।

জানা যায়, এই ব্যতিক্রমী দৃশ্য একনজর দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন মানুষ। প্রতিদিনই সেখানে ভিড় করছেন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কর্মীরা। পথচারীরা থেমে মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ করছেন স্মৃতিসৌধের এই সবুজ প্রতিরূপ। নিজ উদ্যোগের প্রেরণা সম্পর্কে জাফর সাদিক বলেন, শিক্ষকতা আমার পেশা, কৃষি আমার নেশা আর দেশপ্রেম আমার বিশ্বাস। উলিপুর-রাজারহাট সড়কের পাশের এই ধানক্ষেত এখন যেন উন্মুক্ত এক জাদুঘরে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন শত শত মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠছে এলাকা। মানুষের এই আগ্রহ ও ভালোবাসাই জাফর সাদিককে নতুন নতুন সৃষ্টিশীল কাজে অনুপ্রাণিত করছে।

জাফর সাদিকের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, দেশপ্রেম প্রকাশের জন্য বড় কোনো মঞ্চের প্রয়োজন হয় না। সৃজনশীলতা ও ভালোবাসা থাকলে একটি সাধারণ ধানক্ষেতও হয়ে উঠতে পারে জাতির গর্বের প্রতীক।