ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে বিশেষ প্রণোদনা

উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ সাড়ে ১০ টাকা হারে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করার সুযোগ

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। গতকাল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্ধারিত শর্তে সৌরবিদ্যুৎ গ্রাহকরা নিজেদের ব্যবহারের পর জাতীয় গ্রিডে সরবরাহকৃত উদ্বৃত্ত বিদ্যুতের জন্য প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা পাবেন। এ সুবিধা ২০৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিন বছর কার্যকর থাকবে।

বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, সরকারের এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বাড়ানো, বিদ্যুতের ওপর প্রচলিত জ্বালানির নির্ভরতা কমানো এবং গ্রাহকদের নিজস্ব স্থাপনা থেকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে উৎসাহিত করা। এ জন্য ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় প্রতি ইউনিট সর্বোচ্চ ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বর্তমান বাজারদর এবং বিদ্যুৎ বিভাগ প্রাপ্ত বিভিন্ন দরপত্রের মূল্য বিবেচনায় নিয়ে এই উৎপাদনব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ প্রণোদনার অংশ হিসেবে উৎপাদন ব্যয়ের ওপর ২০ শতাংশ মুনাফা এবং ১১.২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যুক্ত করে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারিত হওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় কোনো গ্রাহক কম খরচে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে পারলে সাশ্রয়কৃত অর্থ তার লভ্যাংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সরকারের ঘোষিত এ সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে সময়সীমা একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫ অনুযায়ী, যেসব গ্রাহক আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করবেন এবং নিজস্ব ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবেন, তারাই এ বিশেষ প্রণোদনার আওতায় আসবেন। নির্ধারিত সময়ের পরে স্থাপিত কোনো সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এ প্রণোদনা প্রযোজ্য হবে না। প্রজ্ঞাপনে, প্রণোদনার অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো গ্রাহকদের তথ্য, জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের পরিমাণ এবং প্রণোদনাসহ বিদ্যুতের মূল্যসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করবে। নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫ অনুযায়ী, গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবে প্রতি তিন মাস অন্তর প্রণোদনার অর্থ পাঠানো হবে। কোনো অবস্থাতেই এ অর্থ নগদে প্রদান করা যাবে না। সরকার একই সাথে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির মান নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে। সৌর প্যানেল, ব্যাটারি, ইনভার্টার, মিটারসহ সংশ্লিষ্ট সব ধরনের যন্ত্রপাতি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত কারিগরি মানদণ্ড অনুযায়ী হতে হবে। এর মাধ্যমে নিম্নমানের বা অনিরাপদ যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ এরই মধ্যে স্থাপিত ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টারের মাধ্যমে এ বিষয়ে সহায়তা প্রদান করবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোর আওতাধীন সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কার্যালয় থেকেও গ্রাহকরা নীতিগত সহায়তা পাবেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের প্রণোদনা ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক ভবন এবং আবাসিক ভবনে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের আগ্রহ বাড়লে দিনের বেলায় গ্রিডের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহারও বাড়বে। ব্যাটারি সংযুক্ত ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সংরক্ষণের সুযোগ থাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতাও বাড়তে পারে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, গতকাল ১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন এ প্রণোদনা ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে যোগ্য গ্রাহকদের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন এবং নেট মিটারিং ব্যবস্থার আওতায় যুক্ত হয়ে এ সুবিধা গ্রহণ করতে হবে। ফলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনে সাধারণ গ্রাহকের অংশগ্রহণের নতুন সুযোগ তৈরি হলো।