জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী

জামায়াতের ডকুমেন্টারি প্রদর্শনীর ‘ক্যারাভান’ উদ্বোধন

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ঘোষিত ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে মাসব্যাপী ডকুমেন্টারি প্রদর্শনীর ‘ক্যারাভান’ উদ্বোধন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ।

গতকাল সকালে দলীয় কার্যালয়ে ওই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো: নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথ বিএনপিকেই খুঁজে বের করতে হবে। ক্ষমতা গ্রহণের পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও সরকার জুলাই আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি। সরকার মুখে জুলাইকে ধারণ করলেও অন্তরে ও কাজে তার প্রতিফলন নেই। গণভোটের গণরায় উপেক্ষার কুফল বিএনপিকেই ভোগ করতে হবে। রাষ্ট্রপতির জারিকৃত আদেশে সংসদ নির্বাচন বৈধ হলে গণভোট কিভাবে অবৈধ হয়- এ প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, কোনোটিই অবৈধ নয়, এটি বিএনপিও ভালো করেই জানে। কিন্তু তারা গণভোটের রায় মেনে সংস্কার চায় না বলেই এটাকে অবৈধ দাবি করছে। যতই গড়িমসি করা হোক না কেন, গণভোটের গণরায় সরকারি দল হিসেবে বিএনপিকেই বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, জাতিকে আবার ধোঁকা দিতে বিএনপি সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করেছে।” ওই কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধী দলকে কমিটিতে যোগ দিয়ে মতামত দেয়ার আহ্বান জানালেও বিরোধী দল সেখানে যায়নি। আমাদের দাবি পরিষ্কার ও স্পষ্ট- গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ জনগণ যে রায় দিয়েছে, সেই রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে। তা না হলে শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানি এবং জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রীর একটি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার নিন্দা জানিয়ে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, হামলার নির্দেশদাতা ও হামলায় অংশ নেয়া পুলিশ সদস্যদের বিচার করতে হবে। সরকারের উচিত ছিল শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করে ভুল সিদ্ধান্তের জন্য দুঃখপ্রকাশ করা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা। কিন্তু সরকার তা না করে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলা চালিয়েছে।

ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপির পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন ও ড. আব্দুল মান্নান এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো: শহিদুল ইসলাম। আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এমপি, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট এস. এম. কামাল উদ্দিন, অধ্যাপক নুর নবী মানিক, আব্দুস সালাম, ড. মোবারক হোসাইন, কামরুল আহসান হাসান, সৈয়দ সিরাজুল হক, শাহীন আহমেদ খান, মহানগরীর সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন, সহকারী মিডিয়া সম্পাদক আশরাফুল আলম ইমন এবং সহকারী অফিস সেক্রেটারি মো: মুজিবুর রহমান প্রমুখ।