এম মাঈন উদ্দিন মিরসরাই (চট্টগ্রাম)
মিরসরাই ট্র্যাজেডির দেড় দশক পূর্তিতে নিহত শিক্ষার্থী ও অন্যদের স্মরণে শোকসভা, দোয়া মাহফিল এবং পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতারা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। একইসাথে নিহতদের স্বজনেরা সরকারি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
গতকাল শনিবার সকালে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার আবুতোরাব বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের উদ্যোগে কুরআন খতম, শোকসভা, দোয়া মাহফিল এবং নিহতদের স্মরণে নির্মিত ‘আবেগ’ ও ‘অন্তিম’ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
স্মৃতিস্তম্ভে চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন, উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন, আবুতোরাব বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শোকসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আলাউদ্দিন কাদের। শিক্ষক সমীরণ বড়ুয়ার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন- উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব গাজী নিজাম উদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলমগীর, প্রফেসর কামাল উদ্দিন চৌধুরী কলেজের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবছার উদ্দিন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মর্জিনা আক্তারসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা।
শোকসভায় নিহত শিক্ষার্থী এমরান হোসেন ইমনের বাবা আবুল কাশেম বলেন, তার ছেলে নবম শ্রেণীতে পড়ার সময় ফুটবল খেলা দেখে ফেরার পথে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায়। সে সময় নিহতদের পরিবারের সদস্যদের যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি চাকরির প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের উদ্যোগ নেয়া উচিত। শোকসভা শেষে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। ২০১১ সালের ১১ জুলাই মিরসরাই স্টেডিয়ামে বঙ্গবন্ধু-বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা দেখে ফেরার পথে শিক্ষার্থীবাহী একটি পিকআপ বড়তাকিয়া-আবুতোরাব সড়কের সৈদালী এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের ডোবায় পড়ে যায়। ওই দুর্ঘটনায় ৪২ জন স্কুলশিক্ষার্থীসহ মোট ৪৫ জন প্রাণ হারান।



