উপসচিব পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। পদোন্নতির জন্য ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর পর থেকেই বেড়েছে পদোন্নতির জন্য তদবিরের চাপ। পদোন্নতির জন্য আলোচনায় থাকা কর্মকর্তারা বিভিন্নভাবে তদবিরের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পদোন্নতির জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগী কর্মকর্তারাও। এ সব কর্মকর্তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিজেদের পদোন্নতি নিশ্চিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপসচিব পদোন্নতিতে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ৩১তম ব্যাচকে নিয়মিত ব্যাচ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। শেখ হাসিনার শাসনামলে ২০১৩ সালে এই ব্যাচের কর্মকর্তারা বিসিএস ক্যাডার সার্ভিসে যোগদান করেন। এই ব্যাচের পদোন্নতির যোগ্য আছেন ছয় শতাধিক কর্মকর্তা। তালিকায় আছেন এসআরও এর মাধ্যমে যোগদান করা কর্মকর্তারা : আওয়ামী লীগের আস্থাভাজনদের নিয়োগ দিতে এসআরও জারি করতেন শেখ হাসিনার জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। ক্যাডার সার্ভিসে নিয়োগ শেষ করার পর ৩১তম ব্যাচে অবৈধভাবে ২৪ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়। ক্ষমতাসীন সরকারের আশীর্বাদে ক্যাডার সার্ভিসে আসা এসব কর্মকর্তা ছিলেন শুরু থেকেই বেপরোয়া। তাদের দাপটের কাছে অসহায় ছিলেন মেধা তালিকায় নিয়োগপ্রাপ্তরাও। প্রভাব খাটিয়ে ব্যাচের কমিটিতেও গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নেন এসব কর্মকর্তা। ব্যাচের সহকর্মীদের কার কোথায় পোস্টিং হবে সেটিও নির্ধারণ করতেন তারাই।
জানা গেছে, ৩১তম বিসিএসের নিয়োগের প্রথম গেজেট হয় ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর। এর ছয় মাস পর পরের বছরের ১২ জুন এই ভুয়া ক্যাডারদের নিয়োগের সুপারিশ করে গেজেট প্রকাশ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সিনিয়র সচিব আবদুস সোবহান সিকদার।
নিয়োগপ্রাপ্ত ২৩ জনের মধ্যে প্রশাসন ক্যাডারের ১১জন, পুলিশ ক্যাডারে ছয়জন, ইকোনমিক ক্যাডারে তিনজন, তথ্য ক্যাডারে একজন, পরিবার পরিকল্পনায় একজন এবং কর ক্যাডারে একজন নিয়োগ পেয়েছেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দলীয় বিবেচনায় এসআরওর মাধ্যমে যোগদান করা মেহেরপুর জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম সালাউদ্দীন মনজু। এই কর্মকর্তাকে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে ৪২ লাখ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় ওএসডি করা হয়। চার মাস ওএসডি থাকার পর তাকে আবারো সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে পদায়ন করা হয়। এর আগে এই কর্মকর্তা ঢাকার নবাবগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ঢাকার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার, আমিন বাজার সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে কাজ করেছেন।
একইভাবে নিয়োগ পান পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব এস এম সাদিক তানভীর। গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) থাকাকালে গাজীপুরে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর নির্মাণে নি¤œমানের উপকরণ ও সঠিক মালামাল ব্যবহার না করাসহ বেশ কয়েকটি অনিয়মের অভিযোগে এই কর্মকর্তাকে বরিশালে বদলি করা হয়। এই কর্মকর্তা বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবের একান্ত সচিব হিসেবে কাজ করেছেন।
একইভাবে নিয়োগ পাওয়া পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব সাঈকা সাহাদাত। এই কর্মকর্তা কক্সবাজারের পেকুয়ার ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে ১৫ টন ত্রাণ চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিললে তাকে সেখান থেকে প্রত্যাহার করা হয়। একইভাবে নিয়োগ পাওয়া গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে কাজ করছেন এ কে এম হেদায়েতুল ইসলাম। একইভাবে নিয়োগ পেয়েছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সচিব সোহেল রানা।
একইভাবে নিয়োগ পাওয়া আকতারুন নেছা ২০২৩ সালের ৬ সেপ্টম্বর ৩১তম বিসিএস অল ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম নারী সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। এই কমিটি ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। এই কর্মকর্তা স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে কর্মরত আছেন। তার স্বামীও একই ব্যাচের ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের ঘনিষ্ঠ নাহিদ হাসান আছেন আইএমইডিতে।
বাংলাদেশ জ¦ালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণা কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব হিসেবে কর্মরত মোহাম্মদ রেজাউল করিম একইভাবে নিয়োগ পেয়েছেন। চট্টগ্রাম ওয়াসার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বেগম শিরিন আক্তার একইভাবে ৩১তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেন। ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতর বগুড়ার জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের চার্জ অফিসার মোছা, রওনক জাহান একইভাবে চাকরিতে যোগ দেন। পাবনা জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজা সুলতানা একইভাবে চাকরিতে যোগ দেন।
৩১ ব্যাচের ছাত্র-জনতার ওপর গুলির নির্দেশদাতা ম্যাজিস্ট্রেরা : চব্বিশের জুলাই মাসের প্রথম দিকে কোটাবিরোধী ব্যাপক আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা। এই আন্দোলন দমন করতে সারা দেশে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে বিক্ষুব্ধদের ওপর ক্র্যাকডাউন চালানো হয়। বিভিন্ন বাহিনীতে থাকা সরকারের অনুগত লোকদের নামিয়ে দেয়া হয় রাস্তায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সহিংস ওই পরিস্থিতিতে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগে ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত ছিল অথবা আওয়ামী পরিবারের সদস্য এমন কর্মকর্তাদের প্রাধান্য দেয়া হয়। সম্ভাব্য কর্মকর্তাদের বিষয়ে নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন ইতিবাচক এলে তাদের ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। এ সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে দায়িত্ব পালন করেন ৩১ ব্যাচের ১৩ কর্মকর্তা। এই সব কর্মকর্তার বিচারের আওতায় আসার কথা থাকলেও উল্টো উপসচিব পদোন্নতির জন্য জোর তদবির চালাচ্ছেন।
তালিকার ৭৭ নম্বরে রয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব এস এম মুনিম লিংকনের নাম। এই কর্মকর্তা ২০, ২১, ২৩, ২৬, ২৭, ৩০ জুলাই ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্টের উপপরিচালক মুহা: আবু তাহির ২০, ২১, ২৩, ২৬, ২৭, ৩০ ও ৩১ জুলাই ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গাইবান্ধা জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দাস ২০, ২১, ২৩, ২৬, ২৭, ৩০ ও ৩১ জুলাই ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কাজ করেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (শিক্ষার জন্য অপেক্ষমান) মো: কবীর হোসেন ২০, ২১, ২৩, ২৬, ২৭, ৩০ ও ৩১ জুলাই ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব তুষার আহমেদ ২০, ২৬, ২৭, ৩০, ৩১ জুলাই ও ১, ২ আগস্ট ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শেখ আব্দুল্লাহ সাদীদ ৪ ও ৫ আগস্ট রামপুরা, বাড্ডাসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক এএফএম ফিরোজ মাহমুদ ২০, ২১, ২৩, ২৬, ২৭, ৩০, ৩১ জুলাই এবং ১, ৩ আগস্ট ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (লাইন-১) সহকারী প্রকল্প পরিচালক নজরুল ইসলাম ২০, ২১, ২৩, ২৬, ২৭, ৩০, ৩১ জুলাই ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অর্থ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব সৈয়দ আশরাফুজ্জামান জুলাইয়ের ২০, ২১, ২৩, ২৬, ২৭, ৩০, ৩১ তারিখ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালন করেছেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব এস এম মুনিম লিংকন ২০, ২১, ২৩, ২৬, ২৭, ৩০ জুলাই ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মেহেদী হাসান ২০, ২১, ২৩, ২৬, ২৭, ৩০ ও ৩১ জুলাই রামপুরা-বাড্ডা এলাকায় দায়িত্ব পালন করেছেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব আতিকুল ইসলাম ১, ৩, ৪, ৫ আগস্ট ঢাকার মিরপুর-উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শেখ শামসুল আরেফিন ২০২৪ সালের ৪ ও ৫ আগস্ট ইসিবি এবং রামপুরা-বাড্ডা এলাকায় দায়িত্ব পালন করেন। শরীয়তপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক প্রত্যয় হাসান ১, ২, ৩, ৪, ও ৫ আগস্ট ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ফ্যাসিস্ট আমলে সচিবের পিএসের দায়িত্ব পালন করেছেন যারা : শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদের সহযোগী সচিবদের একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ৩১তম ব্যাচের ২০ কর্মকর্তা। এরা হলেন, মালয়েশিয়ার বাণিজ্য ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ের প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) প্রণব কুমার ঘোষ ২০১৯ থেকে ২০২১ পর্যন্ত প্রায় দুই বছর বাণিজ্য সচিবের একান্ত সচিব এবং এর আগে ৫ মাস ক্রীড়া সচিবের একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ইলেক্ট্রনিক স্বাক্ষর সার্টিফিকেট প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের সহকারী নিয়ন্ত্রক শরীফুল আলম তানভীর এক বছর পাঁচ মাস স্থানীয় সরকার সচিবের একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শাহ মো: শামসুজ্জোহা ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব এবং পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব হিসেবে প্রায় দুই বছর দায়িত্ব পালন করেন।
রংপুর সিটি করপোরেশনের সচিব রাকিব হাসান মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সচিবের একান্ত সচিব হিসেবে ছয় মাস দায়িত্ব পালন করেন। এই কর্মকর্তা চট্টগ্রামের এডিসি থাকাকালীন ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হয়ে প্রার্থী নির্বাচন থেকে শুরু করে তাদের নির্বাচিত করা পর্যন্ত বিভিন্ন ভূমিকা রাখেন। কথিত আছে যে, নির্বাচনে প্রার্থীদের কাছ থেকে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেন এ কর্মকর্তা, যা দিয়ে এক আত্মীয়ের নামে গুলশান এলাকায় ৭০ কোটি টাকা দিয়ে জমি কিনেছেন। এ কর্মকর্তার নামে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এলএও হিসেবে কাজ করার সময় টাকা আত্মসাতেরও অভিযোগ উঠেছিল।
বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব এবং সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের ঘনিষ্ঠ মো: নাহিদ হাসান স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিবের একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অর্থ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব আহসান হাবিব জিতু বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সচিবের একান্ত সচিব হিসেবে দুই বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেন। সেতু বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো: ইমরুল হাসান মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব এ কে এম সাইফুল আলম হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়া সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলমের একান্ত সচিব হিসেবে নির্বাচন কমিশন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। মিসরের বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মো: জাকির হোসেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের একান্ত সচিব হিসেবে প্রায় দুই বছর দায়িত্ব পালন করেন।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো: জাহাঙ্গীর আলম শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিবের একান্ত সচিব হিসেবে এক বছরের বেশি সময় ধরে একান্ত সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো: সাইফুল ইসলাম পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের সচিবের একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (শিক্ষা প্রেষণ) শেখ মহিউদ্দিন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের একান্ত সচিব হিসেবে প্রায় দুই বছর দায়িত্ব পালন করেন। ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (লাইন-৫) সহকারী প্রকল্প পরিচালক মো: মুশফিকুর রহমান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনে প্রায় সাড়ে তিন বছর একান্ত সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। শরীয়তপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো: মাসুদুল আলম ভূমি আপিল বোর্ডের একান্ত সচিব হিসেবে প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালন করেন। পরিকল্পনা কমিশনের সিনিয়র সহকারী প্রধান আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক পরিকল্পনা কমিশনে একান্ত সচিব হিসেবে এক বছর আট মাস দায়িত্ব পালন করেন।
নৌপরিবহন অধিদফতরের স্পেশাল অফিসার, মেরিন সেফটি দীপায়ন দাস শুভ ভূমি আপিল বোর্ড এবং জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমির একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সহকারী প্রধান এস এম সাদিক তানভীর একান্ত সচিব হিসেবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে এক বছর সাত মাস এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে তিন বছর চার মাস একান্ত সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এ কে এম হেদায়েতুল ইসলাম তথ্য কমিশনে একান্ত সচিব হিসেবে এক বছর এক মাস দায়িত্ব পালন করেন। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব অজিত দেব মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এ ছাড়াও পদোন্নতির জন্য জোর তদবির চালাচ্ছেন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়া গোয়াইনঘাটের সাবেক ইউএনও বর্তমানে স্বাস্থ্য সচিবের একান্ত সচিব নাজমুস সাকিব, জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, পার্থ সারথি গীতা শিক্ষা ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা, জ¦ালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মিল্টন রায়, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নিয়ে ধান কেটে আলোচনায় আসা সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ কাবিরুল ইসলাম খান প্রমুখ।



