নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মাণকাজে নিরাপত্তাহীনতা বারবার দুর্ঘটনা

Printed Edition

মোমিন ইসলাম নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়

ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক নির্মাণাধীন ভবনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই শ্রমিকদের কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি প্রাণহানিসহ ধারাবাহিক দুর্ঘটনার পর নির্মাণকাজে নিরাপত্তা ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

গত ১৪ জুলাই নির্মাণাধীন ১০ তলা ইউটিলিটি ভবন-৪-এ স্যানিটারি কাজ করার সময় ওপর থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন নির্মাণশ্রমিক রাসেল। সহকর্মীরা তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত রাসেলের বাড়ি চাঁদপুর জেলায়।

এর আগে ২০২৪ সালের ২২ মার্চ নির্মাণাধীন একটি ১০তলা ভবন থেকে পড়ে রাজশাহীর গোদাগাড়ীর নির্মাণশ্রমিক মো: ইব্রাহিমের মৃত্যু হয়। ২০১৯ সালের ১৫ মে নির্মাণাধীন তৎকালীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাত্র হলের অষ্টম তলা থেকে পড়ে প্রাণ হারান শ্রমিক হাসান। এ ছাড়া ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই একটি নির্মাণাধীন ছাত্র হলের বারান্দার ছাদ ধসে অন্তত ১০ শ্রমিক আহত হন।

শ্রমিকদের অভিযোগ, নির্মাণস্থলে অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জামের ব্যবহার নিশ্চিত করা হয় না। যদিও বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড ও বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী, হেলমেট, সেফটি বেল্ট, সেফটি বুট, গ্লাভস ও অন্যান্য ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার বাধ্যতামূলক। উচ্চতায় কাজের সময় সেফটি বেল্ট ব্যবহার এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা রেলিং ও সুরক্ষা জাল রাখারও বিধান রয়েছে।

সাম্প্রতিক দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান খান অ্যান্ড সন্স বিডি লিমিটেডের প্রকৌশলী জসিম দাবি করেন, নিহত শ্রমিককে সেফটি বেল্ট দেয়া হয়েছিল। তবে তিনি সেটি ব্যবহার করেননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, বিষয়টি প্রকল্প পরিচালকের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী সৈয়দ মোফাছিরুল ইসলাম জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিরাপত্তা বিধি মানার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে অনেক শ্রমিকও নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার করতে অনীহা প্রকাশ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দফতরের পরিচালক প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি জানান, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকের পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালনে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

ধারাবাহিক দুর্ঘটনার পর শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।