হামের উপসর্গে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

হামের উপসর্গে নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরো পাঁচ শিশু মারা গেছে। আর এ সময়ে নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়েছে ২৪৩ শিশু।

শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের হামসংক্রান্ত নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সময়ে শিশুমৃত্যুর এসব ঘটনা ঘটে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ৫১৪ শিশু। নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৯১ শিশুর।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিবেদন বলছে, ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরো ১ হাজার ১৬৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেয়া রোগীর সংখ্যা ৭৬ হাজার ৮৭৬।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য মতে, ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ২৪৩ জন। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ৯ হাজার ৫০৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।

১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬২ হাজার ২৮৭ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৫৮ হাজার ১৫৪ জন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিবেদন বলছে, ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ঢাকা বিভাগে মারা গেছে চারজন; আর বাকি একজন সিলেট বিভাগের।

সিলেট ব্যুরো জানায়, সিলেটে হাম উপসর্গে আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সাথে একদিনে ল্যাব পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ৮৮ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। ২৪ ঘণ্টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ মাস বয়সী শিশু নাফিজুর রহমান মাহদি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। এ নিয়ে সিলেট বিভাগে হামে ও উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪ জনে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোট ২৭৩ জন রোগী। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৫ জুন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হামে ও উপসর্গে ৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে একজন ২২ বছর বয়সী নার্স এবং বাকি ৬৩ জন শিশু। এর মধ্যে চারজনের হাম নিশ্চিত হলেও বাকিরা উপসর্গে মারা গেছেন।

এ দিকে বিভাগে এখন পর্যন্ত ২৫৩ জন ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৪০ জন সুনামগঞ্জের, সিলেটের ৭৬, হবিগঞ্জের ২১ ও মৌলভীবাজারের ১৬ জন।

বর্তমানে সিলেট বিভাগে হাসপাতালে ভর্তিকৃত সন্দেহজনক ২৭৩ রোগীর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০৪ জন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে, ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৮৩, উইমেন্স মেডিক্যাল হাসপাতালে ১, রাগীব রাবেয়া মেডিক্যাল হাসপাতালে ১১, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ২, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ১০, পার্কভিউ মেডিক্যাল হাসপাতালে ৬, আল হারামাইন হাসপাতালে ১, শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৭, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৫ ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ২১ জন শিশু ভর্তি রয়েছে।