আব্দুস সালাম মুন্সীগঞ্জ
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে মসজিদের জমির নামজারি পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে প্রায় ১২ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শ্রীনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের কানুনগো হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম।
গত বৃহস্পতিবার দুদক চেয়ারম্যান বরাবর দেয়া অভিযোগে বলা হয়, শ্রীনগর উপজেলার বাঘড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে বাঘড়া কবরস্থানসংলগ্ন নুরুল কুরআন জামে মসজিদ কমপ্লেক্সের জমির দখল ও নামজারি পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ তৎপর রয়েছে। প্রায় ১০ বছর আগে নির্মিত মসজিদটি আরএস ৭০৫০, ৭০৪৫ ও ৭০৪৬ নম্বর দাগের জমিতে অবস্থিত। এ-সংক্রান্ত নামজারি কেস নম্বর ১৮৯৬/১৮-১৯, তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০১৮।
অভিযোগে সফিকুল ইসলাম দাবি করেন, স্থানীয়ভাবে মসজিদের জন্য জমি ওয়াকফ বা দান করা হলেও জমির পূর্ব মালিকানা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ কথিত জাল দলিলের মাধ্যমে জমিটি নিজেদের নামে নামজারি করার চেষ্টা করছে। এ কাজে কানুনগো হাবিবুর রহমানের যোগসাজশ রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরো বলা হয়, দিনাজপুরে করা ২৯৫৬ নম্বর একটি দলিলের মাধ্যমে রিনা বেগম নামের এক ব্যক্তি জমিটির ক্রেতা হন। পরে শ্রীনগর ভূমি অফিসের মাধ্যমে রিনা বেগম হেবার মাধ্যমে জমিটি কাজল রেখার নামে হস্তান্তর করেন। বর্তমানে কাজল রেখা মসজিদের নামে নামজারিকৃত সম্পত্তি নতুন করে নামজারি করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগকারীর দাবি। সফিকুল ইসলামের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট মিস কেসটি খারিজ হওয়ার কথা থাকলেও কানুনগো হাবিবুর রহমান সেটি নিষ্পত্তি না করে রাখছেন। এ প্রক্রিয়ায় জাল দলিলের পক্ষের সাথে প্রায় ১২ লাখ টাকার অবৈধ লেনদেনের চুক্তি হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগে বিরোধপূর্ণ জমিটির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা উল্লেখ করে জাল দলিলের সত্যতা, নামজারি-সংক্রান্ত নথিপত্র, সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তাদের ভূমিকা এবং কথিত আর্থিক লেনদেন তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে কানুনগো হাবিবুর রহমান বলেন, তিনি বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করেছেন। এর বাইরে তিনি কিছু জানেন না। শ্রীনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফরোজা হক তানিয়া বলেন, বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। উভয় পক্ষকে ডেকে কাগজপত্র যাচাই করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসিবুর রহমান বলেন, ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে নামজারি পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।



