ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) থেকে সংবাদদাতা
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় বোরো ফসল রক্ষায় সরকারের প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি বেড়িবাঁধ কেটে অবৈধভাবে ভিমজাল দিয়ে মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে বিস্তীর্ণ এলাকার বোরো ফসল। বাঁধ কাটার ফলে আসন্ন বর্ষায় হাওরে অকাল বন্যার শঙ্কা প্রকাশ করে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।
গ্রামবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের দৌলতপুর ও চাঁনপুর গ্রামের মাঝামাঝি স্থানে সরেজমিন গিয়ে বেড়িবাঁধ কেটে ভিমজাল পেতে মাছ ধরার স্পষ্ট আলামত পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের সময় ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া যায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চাঁনপুর ও দৌলতপুর গ্রামের একাধিক কৃষক ও জেলে পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায়, দৌলতপুর গ্রামের মেকাব্বির হোসেন (৫২), মুসলিম (৩৮), আবু তালিব (৪৫), গোলাম জিলানী (৪০), কয়েস (৪২), মারুফ (৪০), বদরুল (৩০) ও তৈয়বসহ (৩২) ১০-১৫ জনের একটি প্রভাবশালী চক্র এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা স্থানীয় রাজনীতির সাথে জড়িত বলে জানা গেছে। তবে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর সচল না থাকায় কিংবা নম্বর সংগ্রহ করা সম্ভব না হওয়ায় এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কবীর মিয়া বলেন, আমাদের দৌলতপুর গ্রামের কিছু প্রভাবশালী লোক ফসল রক্ষাবাঁধ কেটে ভিমজাল দিয়ে মাছ ধরছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে পুরো এলাকার কৃষকরা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন। ইউনিয়নবাসী র স্বার্থ রক্ষায় আমি নিজে বাদি হয়ে এদের বিরুদ্ধে দ্রুতই ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করব অথবা থানায় মামলা করব। ধর্মপাশা ইউএনও জনি রায় জানান, সরকারি সম্পদ বিনষ্ট করে যারা এই বেআইনি কাজ করছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।



