আমিনুল ইসলাম
আইনে বাধা নেই। যোগ্যতাও রয়েছে সব ধরনের। তার পরও মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান না পুলিশের ট্রফিক সার্জেন্টরা। অথচ বাংলাদেশ পুলিশের দর্পণ বলা হয় এই সার্জেন্টদের। সড়ক দুর্ঘটনা, হত্যা, চুরি, ছিনতাই, চোরাচালানসহ অসংখ্য অপরাধ তাদের সামনেই ঘটে থাকে, যার প্রথম রেসপন্সকারিও হয়ে থাকে পুলিশ সার্জেন্টরাই। রাস্তায় সংঘটিত অপরাধ রোধে পুলিশ সার্জেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। মামলাও করে থাকেন তারা। কিন্তু সব যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও মামলার তদন্ত করতে পারে না তারা।
অভিযোগ রয়েছে, আইনে কোনো ধরনের নিষেধ না থাকলেও অভ্যন্তরীণ ঠুনকো কিছু কারণ দেখিয়ে সার্জেন্টদের মামলা তদন্ত কাজ থেকে দূরে রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশের ট্রাফিক সার্জেন্টদের মধ্যে। আইন অনুযায়ী তারাও মামলা তদন্ত করার দায়িত্ব পেতে নতুন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
জানা গেছে, পিআরবি বিধি ৭৩৯(২) অনুযায়ী পুলিশ সার্জেন্টরা নিরস্ত্র পুলিশ হিসেবে যোগদান করেন। এস.আর. ও নং ৩৪৩, আইন/২০১৬, গেজেট অনুযায়ী এক বছর বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সারদায় প্রশিক্ষণ নিয়ে গেজেট অনুযায়ী বাংলাদেশ পুলিশের সব শাখায় শিক্ষানবিসকাল শেষ করেন। এ সময় সাব- ইন্সপেক্টরের মতো একই সিলেবাসের অংশ হিসেবে তদন্তসহ আইনের সব বিষয় জ্ঞান লাভ করে সফলতার সাথে পাশ করে সার্টিফিকেট অর্জন করেন।
সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮, এর সকল ধারা ধর্তব্য আপরাধ। এই আইনের ৪৩,৬৬,৭২,৭৫,৮৪,৮৭,৮৯,৯২ এবং ৯৫ ধারায় সংঘটিত অপরাধ সার্জেন্টরা তদন্ত সাপেক্ষে বিচার বিশ্লেষণ করে জরিমানা করে থাকেন। এ ছাড়াও সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর ধারা ১১০ এ সার্জেন্টদের বিনা পরোয়ানায় অপরাধীকে আটক করার ক্ষমতা দেয়া হয়, যা ক্রিমিনাল কেসের অনুরূপ।
সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর ধারা অনুসারে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পরে তদন্ত করে মামলা দায়ের করে তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করা হয়। সুতরাং সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর ১০৫ ধারা সড়ক দুর্ঘটনার তদন্ত করতে সার্জেন্টদের আইনগত কোনো বাধা নেই। সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর ১২০ ধারায় সার্জেন্ট/ সাব-ইন্সপেক্টরকে আইন প্রয়োগের ক্ষমতা প্রদান করা রয়েছে। সুতরাং ১০৫ ধারায় সংঘটিত অপরাধ তদন্তে কোনো বাধা নেই। এ ছাড়াও পুলিশ হেড কোয়ার্টারের নির্দেশে প্রতি ব্যাচে ২৫ জন করে সার্জেন্ট এবং ২৫ জন করে সাব-ইন্সপেক্টর নিয়ে ‘সাইন্টিফিক ইনভেস্টিগেশন ফর রোড ট্রাফিক অ্যাক্সিডেন্ট’ নামে একটি কোর্স চালু করা হয়। বিগত দিনে নিরস্ত্র পুলিশ সার্জেন্টদের সড়কের এম.সি.আর মামলার তদন্ত ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছিল। ডিএমপি অধ্যাদেশ এর ৪৩ ধারায় সড়কের দুর্ঘটনার তদন্ত ট্রাফিক বিভাগের পুলিশ অফিসার দ্বারা সম্পন্ন করার জন্যও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে ডিএমপি অধিভুক্ত এলাকার সড়ক দুর্ঘটনার তদন্ত ট্রাফিক পুলিশ কর্তৃক নিষ্পত্তি করারও আদেশ দেয়া হয়। এ ছাড়া সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮, প্রয়োগের ক্ষমতা সার্জেন্ট/ সাব-ইন্সপেক্টরদের দেয়া রয়েছে। সার্জেন্টদের তৈরিকৃত সিজার লিস্ট এবং সুরতহাল রিপোর্ট আদালতে গৃহীত হয়।
ফৌ:কা:বি -ধারা-১৫৬, পিআরবি-২৫৮ অনুযায়ী তদন্তভার অফিসার ইনচার্জকে দেয়া রয়েছে। তিনি তার অধীনস্থ যে কোনো অফিসার দিয়ে তদন্ত করাতে পারেন, তবে সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার নিচে নয়। সার্জেন্ট এবং সাব-ইন্সপেক্টর একই পদমর্যাদা সম্পন্ন। হাইওয়ের সব থানায় সার্জেন্ট কর্মরত হওয়ায় অফিসার ইনচার্জ চাইলে সার্জেন্টকে দিয়ে তদন্ত করাতে পারেন। আইনের কোথাও বলা নেই সার্জেন্ট মামলা তদন্ত করতে পারবে না, আইনে বলা আছে সাব-ইন্সপেক্টর সমমর্যাদার নিচে নয় যে, যার অর্থ সার্জেন্ট দিয়ে মামলা তদন্তে আইনগত কোনো বাধা নেই। তাই কোনো আইন পরিবর্তন না। করে শুধু মাত্র একটি পরিপত্র প্রকাশের মাধ্যমে পুলিশ সার্জেন্টদের তদন্ত ক্ষমতা প্রদান করা সম্ভব। মাঠ পর্যায়ের সার্জেন্টরা মনে করেন, সার্জেন্টদের তদন্ত ক্ষমতা প্রদান করলে সড়কে সংঘটিত অপরাধের সঠিক রহস্য উদঘাটন হবে এবং পুলিশের উপর অতিরিক্ত মামলা তদন্তের চাপ কমে আসবে। মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে। সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা প্রায় ২২০০ মেধাবী তাদের মেধা রাষ্ট্রের প্রয়োজনে যথাযথ প্রয়োগ করার সুযোগ পাবে। এ ব্যাপারে পুলিশ সদর দফতরের ঊর্ধ্বতনরা বলেন, ২০০৬ সালের গেজেট এর ৯ ধারা অনুযায়ী ডিএমপিসহ দেশের সব ফাঁড়ির ইনচার্জ সার্জেন্ট থাকবেন। কিন্তু তৎকালীন আইজিপি বেনজীর আহমেদের নির্দেশে এসআই অর্থাৎ সাব-ইন্সপেক্টরদের ফাঁড়ি ইনচার্জ করা হয়েছে, যা এখনো বিদ্যমান।



