প্রতিমন্ত্রীতে আশা দেখছেন ফারুক

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

দায়িত্ব গ্রহণের এক সপ্তাহ পার হতে না হতেই দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অচলায়তন ভাঙতে সক্রিয় হয়েছেন নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। গতকাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে দেশের সব ক্রীড়া ফেডারেশনের প্রতিনিধিদের নিয়ে সাড়ে তিন ঘণ্টার এক জরুরি বৈঠকে করেন। দেশের ক্রীড়া কাঠামো সংস্কার এবং মাঠ সঙ্কট দূর করাই ছিল এই সভার মূল লক্ষ্য। এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি ফারুক আহমেদ এবং সিইও নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন।

সভা শেষে ফারুক আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সাথে প্রথম বৈঠকটি অত্যন্ত ইতিবাচক ছিল। উনি নিজে একজন খেলোয়াড় হওয়ায় খেলার মাঠের বাস্তবতাগুলো ভালো বোঝেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে একজন ক্রীড়াবান্ধব ব্যক্তিত্ব। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন যেন দেশের ক্রীড়া খাতের প্রতিটি বিষয় খতিয়ে দেখা হয়।’

সরকার চায় খেলোয়াড়রা যেন গঠনমূলক কাজের পাশাপাশি উপযুক্ত পারিশ্রমিক ও সম্মান পায়। সভায় প্রতিমন্ত্রী তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে মাঠের অভাব দূর করতে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া শিক্ষা কারিকুলামে খেলাধুলাকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং ক্রীড়া শিক্ষকদের মানোন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয়। প্রতিমন্ত্রী প্রতিটি ফেডারেশনের অভাব-অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নোট নিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের যে কর্মপরিকল্পনা আছে, ওনার সাথে যদি একসাথে মেলানো যায়, তাহলে আমাদের জন্য সুবিধা। এ জন্য আমি বলেছি যে ৪টা-৫টা করে যদি ফেডারেশন বলেন, তাহলে আরো বিস্তারিত আলোচনা করা সম্ভব।’

বেতন কাঠামোয় ক্রীড়াবিদরা

ফুটবল ও ক্রিকেট বাদে অন্যান্য খেলার ক্রীড়াবিদদের দীর্ঘ দিনের আর্থিক সঙ্কট দূর করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী। জাতীয় দলকে প্রতিনিধিত্ব করা খেলোয়াড়দের দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট বেতন কাঠামোর আওতায় আনার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি। এই লক্ষ্যে প্রতিটি ফেডারেশনের কাছে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের তালিকা চাওয়া হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে রোজার মধ্যেই কর্মপরিকল্পনা সম্পন্ন করে ঈদের পরপরই তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হবে।

ফেডারেশনগুলোকে ৭ দিনের আলটিমেটাম

গত এক বছরের কাজের মূল্যায়ন (সাফল্য ও ব্যর্থতা) এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা লিখিত আকারে জমা দিতে সাত দিন সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। ফেডারেশনগুলোকে স্বাবলম্বী করা এবং প্রতিটি খেলাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।