৭ বছরেও শেষ হয়নি কোটি টাকার ব্রিজ সুপারিগাছের সাঁকোই ভরসা

Printed Edition
সংযোগ সড়কে না থাকায় সুপারিগাছের সাঁকো তৈরি করে চলছেন : নয়া দিগন্ত
সংযোগ সড়কে না থাকায় সুপারিগাছের সাঁকো তৈরি করে চলছেন : নয়া দিগন্ত

কাউখালী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা

পিরোজপুরের কাউখালীতে এক কোটি ১৪ লাখ টাকার একটি গার্ডার ব্রিজের নির্মাণকাজ দীর্ঘ সাত বছরেও শেষ হয়নি। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ব্রিজের দুই পাশের সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) তৈরি না করায় এটি এলাকাবাসীর কোনো কাজেই আসছে না। উল্টো ব্রিজে ওঠানামার জন্য সুপারি গাছ দিয়ে তৈরি করা ঝুঁকিপূর্ণ অস্থায়ী সাঁকো ব্যবহার করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) আওতায় এক কোটি ১৩ লাখ ৬৭ হাজার ৩৩৩ টাকা ব্যয়ে উপজেলার শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের ফলোইবুনিয়া গ্রামে ২০১৯ সালের ৬ জানুয়ারি এই ব্রিজের কাজ শুরু হয়। ভাণ্ডারিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স ইশান এন্টারপ্রাইজ’ কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায়। চুক্তি অনুযায়ী ২০২০ সালের ৬ এপ্রিলের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আজো তা অসম্পূর্ণ পড়ে আছে।

সরেজমিন দেখা যায়, মূল ব্রিজ দাঁড়িয়ে থাকলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী এবং কোমলমতি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সুপারি গাছের সাঁকো বেয়ে ব্রিজে ওঠানামা করছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো: রুবেল বলেন, ব্রিজের কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। সংযোগ সড়ক না থাকায় সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা খুব কষ্ট করে যাতায়াত করছে। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত এই কাজ সম্পন্ন করা জরুরি। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ রাখার বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি গিয়াস উদ্দিন দাবি করেন, আমরা এ পর্যন্ত প্রায় ৮২ লাখ টাকার কাজ শেষ করেছি, কিন্তু এলজিইডি থেকে এখনো কোনো বিল পাইনি। অফিসে কাগজপত্র জমা দেয়া আছে, বিল পেলেই বাকি কাজ দ্রুত শেষ করে দেবো।

কাউখালী উপজেলা প্রকৌশলী ইমতিয়াজ হোসাইন রাসেল জনদুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি আমরা অবগত আছি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিলসহ কিছু প্রশাসনিক প্রক্রিয়া জটিলতার কারণে দেরি হয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান করে অবশিষ্ট কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।