নেসকোর ডিএমডি নিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ নথিতে ঘাটতি, উঠছে প্রশ্ন

Printed Edition

রাজশাহী ব্যুরো

নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসিতে (নেসকো) ২০১৮ ও ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রে অসঙ্গতি ও ঘাটতির তথ্য সামনে এসেছে। বিশেষ করে নেসকোর বর্তমান উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ উন্নয়ন) মো: রহমত উল্লাহ-আল-ফারুকের নিয়োগসংক্রান্ত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মূল নথি অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে নেসকোর নির্বাহী পরিচালক (অর্থ) সৈয়দ গোলাম আহাম্মদ অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে নির্বাহী পরিচালক (প্রশাসন) পদে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সময় ব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ ও প্রশাসন) পদেও নিয়োগ দেয়া হয়। সেই নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে ২০১৯ সালে চাকরিতে যোগ দেন বর্তমান উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ উন্নয়ন) মো: রহমত উল্লাহ-আল-ফারুক।

পরে সৈয়দ গোলাম আহাম্মদের চুক্তিভিত্তিক চাকরির মেয়াদ শেষ হলে তা আর নবায়ন করা হয়নি। চাকরি শেষে তিনি এককালীন আর্থিক সুবিধা ও পেনশন-সংক্রান্ত পাওনা আদায়ের জন্য নেসকোর পরিচালনা পর্ষদের কাছে আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে তার দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন কার্যক্রম, বিশেষ করে নিয়োগ-সংক্রান্ত নথিপত্র যাচাইয়ের উদ্যোগ নেয়া হয় বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে গত ২৫ মার্চ মো: রহমত উল্লাহ-আল-ফারুক স্বাক্ষরিত এক পত্রে উল্লেখ করা হয়, সাবেক নির্বাহী পরিচালক (অর্থ) সৈয়দ গোলাম আহাম্মদ অতিরিক্ত দায়িত্বে নির্বাহী পরিচালক (প্রশাসন) থাকাকালে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের মূল কপি সম্পর্কিত তথ্য গঠিত কমিটির চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা হয়েছে।

জানা গেছে, নেসকোর উপ-মহাব্যবস্থাপক (লিগ্যাল অ্যান্ড কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স) দফতর থেকে গত ২ মার্চ জারি করা এক পত্রের প্রেক্ষিতে এসব তথ্য পাঠানো হয়। ওই পত্রে নিয়োগ পরীক্ষাসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের সংরক্ষণ, হস্তান্তর এবং বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছিল। কমিটির কাছে পাঠানো তথ্য-উপাত্তে সংশ্লিষ্ট সময়ের নিয়োগ কার্যক্রমের বিভিন্ন নথি ও তথ্য ছক আকারে উপস্থাপন করা হয়। সেখানে দেখা যায়, অন্যান্য নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তুলনায় বর্তমান উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ উন্নয়ন) মো: রহমত উল্লাহ-আল-ফারুকের নিয়োগসংক্রান্ত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মূল নথির ঘাটতি রয়েছে। অনুপস্থিত নথির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) কর্তৃক প্রস্তুত লিখিত পরীক্ষার ফলাফল, মৌখিক পরীক্ষার নম্বরপত্র, নিয়োগ পরীক্ষার টেবুলেশন শিট, মৌখিক পরীক্ষার হাজিরা শিট এবং নিয়োগসংক্রান্ত বোর্ড সভার কার্যবিবরণী।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বৈধতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এসব নথি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ফলাফল, টেবুলেশন শিট এবং বোর্ড সভার অনুমোদনসংক্রান্ত কার্যবিবরণী নিয়োগের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে এসব নথির মূল কপি অনুপস্থিত থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

নেসকো সূত্র জানিয়েছে, গঠিত কমিটির চাহিদা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সময়ের নিয়োগ কার্যক্রমের সব তথ্য ও নথিপত্র সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে কমিটি পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নেসকোর বর্তমান উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ উন্নয়ন) মো: রহমত উল্লাহ-আল-ফারুক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। নিজের এবং অন্যদের নিয়োগসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করার পরামর্শ দেন।

নেসকোর বিদায়ী নির্বাহী পরিচালক (অর্থ) সৈয়দ গোলাম আহাম্মদ বলেন, “নিয়োগসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ মূল নথি না থাকার কোনো কারণ নেই। এসব নথি অবশ্যই সংরক্ষিত থাকার কথা। যাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে তারা ইতোমধ্যে এক বা একাধিক পদোন্নতি পেয়েছেন। মূল নথি না থাকলে পদোন্নতি কীভাবে হয়েছে, সেটিও প্রশ্নের বিষয়।”

অন্য দিকে নেসকোর মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ উন্নয়ন) রফিকুল ইসলাম বলেন, “নিয়োগসংক্রান্ত নথিপত্র কোম্পানির সচিবালয়ে পাঠানো হতো। মূল নিয়োগ কার্যক্রমও সেখান থেকেই সম্পন্ন হয়েছে। বুয়েট নিয়োগ পরীক্ষা নিয়েছিল। ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহের কোনো কারণ নেই। বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তি হবে বলে আমরা আশা করছি।”

এ দিকে নিয়োগসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের অনুপস্থিতির বিষয়টি নিয়ে নেসকোর অভ্যন্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে। গঠিত কমিটির তদন্ত ও পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে এখন সংশ্লিষ্টদের নজর রয়েছে।