দাম বাড়লেও ফলন কম

উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম লালমনিরহাটের পাটচাষিরা

Printed Edition
লালমনিরহাটে নতুন পাট কেনা-বেচার দৃশ্য : নয়া দিগন্ত
লালমনিরহাটে নতুন পাট কেনা-বেচার দৃশ্য : নয়া দিগন্ত

আসাদুল ইসলাম সবুজ লালমনিরহাট

লালমনিরহাটের ক্ষেতে, মাঠে, নদী-নালা ও জলাশয়ে এখন পাট কাটা, পাট জাক দেয়া, আঁশ ছাড়ানো, ধোয়া, শুকানো ও পাট বাজারে নিয়ে যাওয়ার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। হাট-বাজারে উঠতে শুরু করেছে নতুন পাট। তবে অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার কারণে পাটগাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ায় চলতি মৌসুমে পাটচাষের উৎপাদন খরচ তুলতে পারবেন কি না সে বিষয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন পাটচাষিরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে লালমনিরহাটে চার হাজার ৪৫ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ৭৩০ হেক্টর বেশি। এ বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৯ হাজার ৫৪৯ মেট্রিক টন। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূল না থাকায় পাটের দৈর্ঘ্য স্বাভাবিকের চেয়ে তিন থেকে পাঁচ ফুট পর্যন্ত কম হয়েছে। এর পাশাপাশি নদী ভাঙন এবং অতি বৃষ্টিতেও পাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের কৃষক হাবিবুর রহমান (৪২) জানান, এক বিঘা (৩৩ শতাংশ) জমিতে পাট চাষে বীজ, সার, নিড়ানি ও প্রসেসিং মিলিয়ে প্রায় ১৬ হাজার টাকা খরচ হয়। গাছ ছোট হওয়ায় বিঘা প্রতি ফলন কমে গিয়ে মাত্র ছয় মণে নেমেছে। বর্তমান বাজার দরে প্রতি মণ পাট চার হাজার টাকা হিসেবে বিক্রি হলে সর্বমোট ২৪ হাজার টাকা বিক্রি করা যায়। তিন মাসের কঠোর পরিশ্রমে সব খরচ বাদ দিলে বিঘা প্রতি লাভ থাকে মাত্র আট হাজার টাকার মতো। আর জমি লিজ নেয়া থাকলে কোন লাভই থাকে না।

একই উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের কৃষক শফিকুল ইসলাম (৫২) জানান, কৃষক প্রতি মণ পাট উৎপাদনে খরচ হয় প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। ফলন কমে বিঘা প্রতি ছয়-সাত মণ পাটের উৎপাদন হওয়ায় বাজারের ভালো দাম পেলেও কাক্সিক্ষত লাভ হাতছাড়া হচ্ছে। অর্থাৎ বাজারে পাটের দাম ভালো থাকলেও ফলন কম হওয়ায় লাভের কোনো আশা দেখছি না।

জেলার পাট ব্যবসায়ী দুলাল মিয়া বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার পাটের শুরুতেই ভালো দাম মিলছে। গত বছর মৌসুমের শুরুতে প্রতি মণ পাট তিন হাজার ৪০০ থেকে তিন হাজার ৮০০ টাকায় কেনাবেচা হয়েছে। এবার তা বেড়ে চার হাজার থেকে চার হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার সোহায়েল আহমেদ বলেন, বীজ বপন ও চারা বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে গাছের স্বাভাবিক উচ্চতা বাধাগ্রস্ত হয়। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ফলনে। তবে এবার পাটের বাজার ভাল। কৃষকরা হয়তো ক্ষতি পুষিয়ে দিতে পারবেন।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক ড. মো: সাইখুল আরিফিন জানান, অতিবৃষ্টির কারণে কিছু নিচু এলাকায় উৎপাদনে খানিকটা মার খেলেও সামগ্রিকভাবে জেলার অনেক স্থানেই সন্তোষজনক ফলন হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এবার বাজারে পাটের দাম বেশ ভালো।

তিনি আরো জানান, কৃষকদের এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ও সহায়তার জন্য সরকার উন্নতমানের বীজ, আধুনিক কৃষি উপকরণ এবং বাজারে পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।