তাহিরপুরে নেদারল্যান্ডস সরকারের অর্থায়নে নির্মিত বিদ্যালয়গুলো বন্ধ

Printed Edition
তাহিরপুরে পরিত্যক্ত স্কুলভবন :  নয়া দিগন্ত
তাহিরপুরে পরিত্যক্ত স্কুলভবন : নয়া দিগন্ত

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় নেদারল্যান্ডস সরকারের অর্থায়নে নির্মিত ১৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ পড়ে আছে। একসময় প্রত্যন্ত হাওর ও গ্রামাঞ্চলের শিশুদের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এসব বিদ্যালয় এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে, আর কোথাও কোথাও বিদ্যালয়ের দরজা-জানালা ও মূল্যবান সামগ্রী খুলে নিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা।

উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে স্থাপিত এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় সহযোগিতা করত বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এফআইভিডিবি। তবে দীর্ঘ দিন ধরে অর্থ বরাদ্দ বন্ধ থাকায় বিদ্যালয়গুলো বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে বিদ্যালয়গুলোতে কর্মরত শিক্ষক ও কর্মচারীরাও বেকার হয়ে পড়েন। সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত বিদ্যালয়গুলো চালু করা হলে শিক্ষার পাশাপাশি বেকার শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এফআইভিডিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালের দিকে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় স্থানীয় দানবীরদের দান করা জমিতে এসব বিদ্যালয় নির্মাণ করা হয়। তাহিরপুরে ১৪টি ছাড়াও সুনামগঞ্জ সদরে ২১টি, বিশ্বম্ভরপুরে ২৯টি, শান্তিগঞ্জে ২০টি, জামালগঞ্জে ১০টি এবং দিরাইয়ে ৯টি বিদ্যালয় নির্মিত হয়েছিল। প্রতিটি বিদ্যালয় নির্মাণে তখন ব্যয় হয় প্রায় ১১ থেকে ১৪ লাখ টাকা। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান হতো এবং প্রতিটি বিদ্যালয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী ছিল।

কয়েক বছর ভালোভাবে পরিচালিত হলেও অর্থ বরাদ্দ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিদ্যালয়গুলো একে একে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এসব এলাকার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য হেঁটে কয়েক কিলোমিটার দূরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে। অনেক শিশু ঝরে পড়ছে শিক্ষাব্যবস্থা থেকে। তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানান, হাওরপাড়ের বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিশুদের পড়াশোনা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয়টি চালু হলে এলাকার শিশুদের জন্য শিক্ষা গ্রহণ সহজ হতো।

এ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষিকা নিরালা বেগম বলেন, ২০১৩ সালের দিকে স্কুলটি বন্ধ হয়ে যায়। কিছুদিন নিজের উদ্যোগে পাঠদান চালিয়ে গেলেও পরে আর সম্ভব হয়নি। আজও আশায় আছি, যদি আবার স্কুলটি চালু হয়। এফআইভিডিবি সুনামগঞ্জ অঞ্চলের রিজিওনাল ম্যানেজার সালাহ উদ্দীন জানান, অর্থ বরাদ্দ না থাকায় বিদ্যালয়গুলো বন্ধ রয়েছে। তবে বরাদ্দ পাওয়া গেলে এগুলো আবার চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।