তিন লাল কার্ডের বাজে রেকর্ড আর্জেন্টিনার

Printed Edition
স্পেনের ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়াকে গলা ধাক্কা দিচ্ছেন আর্জেন্টিনার ফুটবলার লিয়ান্দ্রো পারেদেস : ইন্টারনেট
স্পেনের ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়াকে গলা ধাক্কা দিচ্ছেন আর্জেন্টিনার ফুটবলার লিয়ান্দ্রো পারেদেস : ইন্টারনেট

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ফাইনাল খেলার অন্তিম মুহূর্তে মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দেশ হিসেবে ফাইনালে তিনটি লাল কার্ড দেখার বাজে রেকর্ড গড়ল আর্জেন্টিনা।

ক্রীড়াবিষয়ক সাময়িকী ‘স্পোর্টস মোল’-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তেতো পরিসংখ্যানের কথা।

ম্যাচে রেফারি স্ল্যাভকো ভিনচিচকে অশ্রদ্ধা প্রকাশ করায় প্রথম হলুদ কার্ডটি দেখেন চেলসি মিডফিল্ডার এনজো। এরপর ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষে অতিরিক্ত সময়ের তিন মিনিটে স্প্যানিশ ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সিকে অপ্রয়োজনীয় এক ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড (লাল কার্ড) দেখেন তিনি। যখন টাইব্রেকারে ম্যাচ নেয়ার শেষ চেষ্টা চালাচ্ছিল লিওনেল স্কালোনির দল, ঠিক তখনই এনজোর এই ভুল ১০ জনের দলে পরিণত করে আর্জেন্টিনাকে।

ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় ১০৬তম মিনিটে। স্প্যানিশ উইঙ্গার নিকো উইলিয়ামসের চমৎকার নকডাউন থেকে গোলকিপারকে পরাস্ত করে ম্যাচের জয়সূচক গোলটি করেন স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস। তাতে দ্বিতীয় বিশ^কাপ জয় স্পেনের।

বিশ্বকাপের ফাইনালে লাল কার্ড পাওয়ার মিছিলে এনজো অনুসরণ করলেন তারই দুই পূর্বসূরি পেদ্রো মনজোন ও গুস্তাভো দেজোত্তিকে। ১৯৯০ সালের রোম ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির কাছে ১-০ ব্যবধানে হারের সেই বিষাদময় রাতে লাল কার্ড পেয়েছিলেন তাঁরা দু’জন। বিশ্বকাপের কোনো একক ফাইনালে একই দলের দু’জন ফুটবলারের বহিষ্কৃত হওয়ার একমাত্র ঘটনা সেটিই।

গত রোববারের এ ঘটনার আগে ফাইনালের মঞ্চে সর্বোচ্চ দু’টি লাল কার্ড নিয়ে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা যৌথভাবে অনাকাক্সিক্ষত এই তালিকার শীর্ষে ছিল। ফরাসিদের হয়ে ১৯৯৮ সালে মার্সেল দেসাই এবং ২০০৬-এর ঐতিহাসিক ফাইনালে মার্কো মাতেরাজ্জিকে ঢুঁস মেরে জিনেদিন জিদান লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়ে ছিলেন। তবে এবার এনজোর লাল কার্ডের পর এককভাবে এই লজ্জার রেকর্ড নিজেদের করে নিলো আর্জেন্টিনা।

১৯৩০, ১৯৯০ ও ২০১৪ সালের ফাইনাল হারার পর এবার তাদের ঝুলিতে জমা হলো চতুর্থ রানার্সআপ ট্রফি। ফলে জার্মানির সাথে যৌথভাবে সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ ফাইনাল হারার হতাশাজনক রেকর্ডেরও ভাগিদার তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

তথ্য মুছে ফেলেছে ফিফা

বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হওয়ার পর মাঠের ভেতর এক অনাকাক্সিক্ষত ও অপ্রীতিকর হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন আর্জেন্টিনার ফুটবলার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। স্পেনের ট্রফি উদযাপনের সময় দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে তুমুল বাগি¦তণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে দেখা যায়, পারেদেস স্প্যানিশ ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়াকে গলার কাছে হাত দিয়ে আঘাত করছেন, যার পরপরই ম্যাচ ধারাভাষ্যকাররা ঘোষণা করেন, মিডফিল্ডার পারেদেসকে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে।

তবে বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ফিফার তথ্যপ্রযুক্তি সিস্টেমে ভুলবশত পারেদেসকে রেফারি স্ল্যাভকো ভিনচিচ কর্তৃক লাল কার্ড দেয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। পরে ফিফা নিজেদের ‘কমেন্টেটর ইনফরমেশন সিস্টেম’ থেকে সেই লাল কার্ডের তথ্যটি মুছে ফেলে এবং নিশ্চিত করে যে ম্যাচ শেষে পারেদেসকে তৎক্ষণাৎ কোনো লাল কার্ড দেখানো হয়নি।