নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সরাসরি আইনের মুখোমুখি হয়েছেন বর্তমান সরকারের একজন মন্ত্রী। রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডে উল্টোপথে গাড়ি চালানো এবং বেপরোয়া গতির অভিযোগে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের ব্যবহৃত পতাকাবাহী রেঞ্জ রোভার গাড়ির বিরুদ্ধে দু’টি মামলা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। একই সাথে দু’টি মামলায় তিন হাজার টাকা করে মোট ছয় হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার সময় মন্ত্রী নিজে গাড়ির ভেতরে অবস্থান করছিলেন।
সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক পুলিশ ও সূত্র জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৮ মিনিটের দিকে সার্কিট হাউস সড়ক দিয়ে ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৮-২১২৫ নম্বরের গাড়িটি উল্টোপথে অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে সচিবালয়ের দিকে যাচ্ছিল। একই সময়ে দেশের প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর পাশের সড়ক দিয়ে সচিবালয়ের দিকে এগোচ্ছিল, যার কারণে সার্কিট হাউস মসজিদসংলগ্ন সড়কে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা বিশেষ সতর্কতায় নিয়োজিত ছিলেন। মন্ত্রীর গাড়িটির গতিবিধি অত্যন্ত ঝুঁঁকিপূর্ণ ও স্বাভাবিক চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী মনে হওয়ায় দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্য তাৎক্ষণিকভাবে সঙ্কেত দিয়ে গাড়িটি থামিয়ে দেন।
গাড়িটি থামানোর পর ট্রাফিক পুলিশ চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে চালক উল্টোপথে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর বিষয়ে কোনো সন্তোষজনক বা যৌক্তিক জবাব দিতে পারেননি। পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ট্রাফিক সার্জেন্ট সিফাত মাহমুদ গাড়িটির বিরুদ্ধে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৮৭ ও ৯২ ধারায় দু’টি পৃথক মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে সার্জেন্ট সিফাত মাহমুদ বলেন, মন্ত্রীর গাড়িতে মামলা দেয়া যায়, এটা আমিও বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। এটি একটি বিরল ঘটনা। মামলাটি গাড়ির নিবন্ধন নম্বরের বিপরীতে করা হলেও ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের মূল দায় চালকের হওয়ায় জরিমানার অর্থ চালক আরিফ হোসেনকেই পরিশোধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ট্রাফিক পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, অতীতে যানজট এড়াতে মন্ত্রী কিংবা ভিআইপিদের গাড়ি উল্টোপথে চলার নজির ও প্রবণতা থাকলেও বাংলাদেশে কোনো মন্ত্রীর গাড়ির বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইনে মামলা হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। সরকারের শীর্ষ মহল থেকে পুলিশকে দায়িত্ব পালনের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। মন্ত্রীরা আইন না মানলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আইন ভঙ্গের প্রবণতা তৈরি হতে পারে। পুলিশ প্রশাসন মনে করছে, এ পদক্ষেপটি দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জন্য আইনের সমতার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জোরালো বার্তা।



