বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার শেখেরখীলের সরকার বাজার এলাকায় ঐতিহ্যবাহী জলকদর খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন একাধিকবার ব্যবস্থা নিতে বললেও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এখনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে সরকার বাজারের দক্ষিণ পাশে খালের জায়গা দখল করে স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম একটি জেটি নির্মাণকাজ শুরু করেন। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর পাউবো তাকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়ে নোটিশ জারি করে। তবে অভিযোগ রয়েছে, ওই নির্দেশনা উপেক্ষা করে তিনি নির্মাণকাজ অব্যাহত রেখে তা সম্পন্ন করেন।
স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ স্থাপনাটি উচ্ছেদে উপজেলা প্রশাসন বারবার পাউবোর দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও নানা অজুহাতে সংস্থাটি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এদিকে জলকদর খালের উত্তরাংশের দুই হাজার ৪০০ মিটার পুনঃখননের জন্য সম্প্রতি ৬১ লাখ ৮৩ হাজার ৯৩৪ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের আওতায় ৩৩ কিলোমিটার দীর্ঘ খালটির সাধনপুর, খানখানাবাদ ও বাহারছড়া ইউনিয়ন অংশে খননকাজ চলছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এক দিকে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয়ে খাল পুনঃখনন করা হচ্ছে, অন্য দিকে একই খালের অংশ দখল হয়ে গেলেও ব্যবস্থা না নেয়া পরস্পরবিরোধী অবস্থানের সামিল। তারা বলেন, খাল পুনরুদ্ধার ও পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।
অভিযোগ রয়েছে, পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী অনুপম পাল এ বিষয়ে কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখছেন না। তার বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ ও কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন ও বার্তা পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি।
অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘খাল দখল করে আরো অনেকে স্থাপনা নির্মাণ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেয়া হবে, আমার ক্ষেত্রেও সেটিই হবে।’
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। তারা উদ্যোগ নিলে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।’
এ বিষয়ে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী ড. তানজীর সাইফ আহমেদ জুয়েলের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



