দেশের ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অ্যাকাডেমিক জার্নি যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং। ল্যাবের ভারী মেশিনের শব্দ, প্রজেক্ট-অ্যাসাইনমেন্টের চাপ আর সেমিস্টার ফাইনালের নির্ঘুম রাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর জীবন। তবে এই চিরচেনা ছকের বাইরে গিয়ে অন্যরকম এক উদ্যোক্তা-সফর শুরু করেছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) চতুর্থ বর্ষের দুই শিক্ষার্থী সাদিক ও তামিম। পড়াশোনার পাশাপাশি তারা গড়ে তুলেছেন নিজেদের সুগন্ধি ব্র্যান্ড ‘সাহাবী’। তাদের এই উদ্যোগের বেড়ে ওঠা, যা আজ কেবল ক্যাম্পাসের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং ছড়াচ্ছে আস্থার সুবাস।
শূন্য থেকে শুরু : বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের উচ্ছ্বাসের মাঝেই তামিমের ভাবনায় ছিল নিজস্ব কিছু করার তাগিদ। বিভিন্ন ব্যবসায়িক মডেল নিয়ে গবেষণার এক পর্যায়ে সে মনোযোগ দেয় ‘আতর’ বা সুগন্ধির জগতে। সুগন্ধির প্রতি তার ব্যক্তিগত ভালো লাগা তো ছিলই, পাশাপাশি কাজ করেছে প্রখর ব্যবসায়িক দূরদর্শিতা। তামিমের মতে, আতর এমন একটি পণ্য, যার সহজে নষ্ট হওয়ার ভয় নেই এবং এর স্থায়িত্ব অনেক বেশি।
পরিবারে কোনো ব্যবসায়িক ব্যাকগ্রাউন্ড না থাকায় আর্থিক কোনো সাহায্য নেয়া হয়নি। পরিবারের মানসিক সমর্থন আর পকেটে থাকা মাত্র তিন হাজার টাকা সম্বল করেই শুরু হয় তাদের এই সাহসী পথচলা।
চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর পাঠ
একজন নতুন উদ্যোক্তার পথ কখনোই মসৃণ হয় না। ব্যবসা শুরুর প্রাথমিক পর্যায়ে কাঁচামাল সোর্সিং করতে গিয়ে কিছুটা প্রতারণার শিকার হতে হয় তামিমকে। তবে সেই অনাকাক্সিক্ষত ধাক্কা তাকে হতাশ করার পরিবর্তে আরো কৌশলী হতে শিখিয়েছে। ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার যে মানসিকতা সে দেখিয়েছে, তার ফলস্বরূপ সেই তিন হাজার টাকার উদ্যোগ আজ দুই বছরের ব্যবধানে লাখ টাকার এক সম্মানজনক ব্যবসায়িক পজিশনে উন্নীত হয়েছে।
‘সাহাবী’ নাম রাখার কারণ : ব্যবসার পরিধি যখন ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে, তখন প্রয়োজন পড়ে একজন বিশ্বস্ত পার্টনারের। তামিম তখন তার বন্ধু সাদিককে সহযোদ্ধা হিসেবে বেছে নেন। দুজনের চিন্তাচেতনা ও ব্যবসায়িক মূল্যবোধের দারুণ মিল থাকায় এই পার্টনারশিপ ব্র্যান্ডটিকে আরো গতিশীল করে তোলে।
আরবি ‘সাহাবী’ শব্দের অর্থ হলো বন্ধু বা সাথি। এই নামকরণের পেছনে রয়েছে তাদের ব্যবসার মূল দর্শন। প্রতিটি গ্রাহকের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ এবং তাদের সেরা মানের পণ্যটি উপহার দেয়াই এই ব্র্যান্ডের প্রধান লক্ষ্য। ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে মতানৈক্য সম্পর্কে তাদের পেশাদার দৃষ্টিভঙ্গি হলো মতের অমিল হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। তবে আমরা পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাই, যা দিনশেষে ব্যবসার জন্য সবচেয়ে কল্যাণকর।
মানে আপসহীন : বাজারে সুগন্ধির অভাব নেই, তবে ‘সাহাবী’র ইউনিক সেলিং পয়েন্ট (টঝচ) হলো তাদের সততা ও মান। তামিম ও সাদিকের ব্যবসায়িক নীতি অত্যন্ত স্পষ্ট ব্যবসার সুন্নত হলো কথা ও কাজের মিল রাখা।
পণ্য বিক্রির চেয়েও তারা গ্রাহকের সন্তুষ্টিকে বেশি প্রাধান্য দেয়। পণ্যের মানের ক্ষেত্রে কোনো আপস না করার কারণে যারা একবার ‘সাহাবী’ ব্যবহার করেছেন, তারা এর গুণগত মান ও সেবায় মুগ্ধ হয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে বারবার ফিরে এসেছেন।



