মানুষের স্বপ্নের শেষ নেই। সবার স্বপ্নের মধ্যে পার্থক্য আছে। কেউ স্বপ্ন দেখে কোটি কোটি টাকার মালিক হবে। কেউ স্বপ্ন দেখে এমপি-মন্ত্রী হওয়ার। কেউ কেউ স্বপ্ন দেখে বড় বড় বাড়ি করার।
কিন্তু আসাদের স্বপ্ন সবার থেকে আলাদা। স্থলজ প্রত্যন্ত অঞ্চলের অজোপাড়া একটি গাঁয়ে দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে আসাদ। গ্রামটি গাজনার বিলের গাঁ ঘেঁষে আছে যেমন- নৌকা আর নদী একসাথে থাকে। ছোটবেলা থেকেই আসাদ গাজনার বিলের প্রতি দুর্বল। মা-সন্তানের সম্পর্ক যেমন, গাজনার বিলের সাথে আসাদের সম্পর্কও ঠিক তেমন।
আসাদ পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র। ক্লাসের মধ্যে সবার সেরা। স্কুল ছুটি হলে সবাই যখন বন্ধুদের সাথে মাঠে খেলতে চলে যায়, আসাদ তখন দৌড়ে আসে গাজনার বিলের মাঠে- তার বাবার কাজে সহযোগিতা করতে। আসাদের বাবা প্রচণ্ড রোদে যখন পাট নিড়ায়, আসাদ তখন সেই ঘাসগুলো ঝাকায় করে ক্ষেত থেকে বাইরে এনে দেয়। বাবার কাজে সহযোগিতা করতে করতে আসাদ যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখন বাবার কাঁধে থাকা গামছা নিয়ে সে ঘাম মুছে। আসাদের বাবা তখন বলে, ‘বাজান! দুই হাত দিয়ে গামছা টান করে মাথার ওপর ধরো- ছায়ার সাথে সাথে তোমার গায়ে বাতাস লাগবে।’
আসাদ তার বাবার দিকে তাকিয়ে দেখে- সারা শরীর ঘামে ভিজে চপচপ হয়ে গেছে। আসাদ গামছা মাথায় দিয়ে বিস্তীর্ণ গাজনার বিলের মাঠের দিকে তাকিয়ে স্বপ্ন দেখে সবুজ বিপ্লবের।
একদিন গাজনার বিলের চারদিকে সবুজে ছেয়ে যাবে। কৃষকরা মাঠে কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়লে দৌড়ে গিয়ে গাছের ছায়ায় বসে বিশ্রাম নেবে। পাখিরা ভোরে সূর্য ওঠার আগেই গান গাইবে। ক্লান্ত পথিক গাছের ছায়ায় বসে বিশ্রাম নেবে। বর্ষায় বৃষ্টি নামবে, শীতে মানুষ থরথর করে কাঁপবে। একাকিত্বে গাছ হবে জীবনের সঙ্গী। বাউলরা গাছের তলায় গ্রীষ্মের দুপুরে গান গাইবে। ভাদ্র মাসে গাছের ছায়ায় নৌকা বেঁধে মাঝিরা বিশ্রাম নেবে। কবিরা গাছের তলায় বসে কবিতা লিখবে। একদিন এই গাজনার বিল হয়ে উঠবে সবুজ বিপ্লবের প্রান্তর।



