নিজস্ব প্রতিবেদক
সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় বিদায় নিলেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিশিষ্ট গবেষক, প্রাবন্ধিক ও প্রগতিশীল রাষ্ট্রচিন্তাবিদ অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক। গতকাল বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে তৃতীয় জানাজা শেষে বিকেলে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে প্রিয় শিক্ষক, গবেষক ও অগ্রজকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সকাল থেকেই বাংলা একাডেমি, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভিড় করেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, লেখক, গবেষক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বসহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ। সকালে বাংলা একাডেমির বটতলায় তার দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে নিয়ে মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম শ্রদ্ধা জানান। বাংলা একাডেমিতে নামাজে জানাজা শেষে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার লাশ নিয়ে যাওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। সেখানে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, মুক্তবুদ্ধি ও সত্যের পক্ষে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের আপসহীন কণ্ঠস্বর তরুণ প্রজন্মকে আজীবন পথ দেখাবে।
শহীদ মিনার থেকে লাশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে নেয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিসহ তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মেয়ে শুচিতা শারমিন আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, বাবার মূল লক্ষ্যই ছিল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো এবং সমাজ সংস্কারের জন্য কাজ করা।
দাফন শেষে উপস্থিত সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, দেশের সাহিত্য, সমাজচিন্তা ও রাষ্ট্র সংস্কার ভাবনার এই পুরোধা ব্যক্তির চলে যাওয়া একটি নত্রের পতনের শামিল।
আবুল কাসেম ফজলুল হক রোববার আকস্মিকভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। তিনি স্ত্রী ফরিদা প্রধান, মেয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম নারী ভিসি শুচিতা শারমিন, পুত্রবধূ রাজিয়া রহমান, নাতি-নাতনীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার ছেলে জাগৃতি প্রকাশনীর প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর আজিজ সুপার মার্কেটে উগ্রবাদীদের হামলায় নিহত হন।



