যমুনায় ভেঙে যাচ্ছে বসতভিটা সড়ক ও প্রতিষ্ঠান

Printed Edition
দৌলতপুরে যমুনা নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা : নয়া দিগন্ত
দৌলতপুরে যমুনা নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা : নয়া দিগন্ত

আব্দুর রাজ্জাক ঘিওর (মানিকগঞ্জ)

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে বসতভিটা, আবাদি জমি ও গ্রামীণ অবকাঠামো একের পর এক নদীতে বিলীন হচ্ছে। কয়েক দিনের টানা ভাঙনে উপজেলার জিয়নপুর ইউনিয়নের বড় লাউতারা ও ছনপাড়া গ্রামের অন্তত ১০ থেকে ১২টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীতে তলিয়ে গেছে। শেষ সম্বল হারিয়ে অনেক পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

স্থানীয়রা জানান, পানি বৃদ্ধির সাথে যমুনার তীব্র স্রোতে ভাঙনের গতি বেড়েছে। প্রতিদিনই নদী গিলে খাচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। আতঙ্কে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। আবার অনেকে শেষ আশ্রয়টুকু রক্ষার আশায় নদীতীরেই দিন-রাত কাটাচ্ছেন। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মোকছেদ আলী ও ইসলাম উদ্দিন বলেন, বাপ-দাদার ভিটেমাটি, বসতঘর ও গাছপালা সবই নদীতে চলে গেছে। চোখের সামনে জীবনের শেষ সম্বল হারিয়ে তারা এখন দিশেহারা। পরিবার নিয়ে কোথায় আশ্রয় নেবেন, কিভাবে নতুন করে জীবন শুরু করবেন, তা ভেবে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে। দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আহাম্মদ আলী বলেন, জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা না নিলে বড় লাউতারা ও ছনপাড়া গ্রামের প্রায় ২০০টি পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়বে। একই সাথে গ্রামের প্রধান সংযোগসড়ক, মসজিদ, মাদরাসাসহ গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানও নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় রফিকুল ইসলাম বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকায় মাত্র ৫০০ ফুটজুড়ে জিও ব্যাগ ফেলা হলে প্রায় ২০০টি পরিবারকে নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। তাই দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেয়া জরুরি।

জিয়নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতোয়ার রহমান বলেন, ভয়াবহ ভাঙনের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধ এবং দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামান বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকায় ইতোমধ্যে ৭৮০ মিটারজুড়ে জিও ব্যাগ ফেলে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে। জেলার অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাও সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। যমুনা নদীর ভাঙনের স্থায়ী সমাধানে প্রায় এক হাজার ৫০০ কোটি টাকার একটি নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে।