বিশ্বকে বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ : তালহা

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দু’টি টেস্ট ম্যাচের ঐতিহাসিক সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করে গত শুক্রবার রাতে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। সিরিজের প্রথম টেস্টে ডারউইনে অসিদের ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। যদিও ম্যাকাইয়ে দ্বিতীয় টেস্টে স্বাগতিকদের বাউন্সি উইকেটের মুখে দু’দিনের মধ্যে হেরে সমতায় সিরিজ শেষ করতে হয়, তবুও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এই সাফল্যকে বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের এক বড় শক্তিমত্তার বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে দলের প্রতিনিধি হয়ে হজরত শাহজালাল (রহ:) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন ভারপ্রাপ্ত পেস বোলিং কোচ তালহা জুবায়ের।

দলের প্রধান ক্রিকেটার ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, তাইজুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ অস্ট্রেলিয়াতেই পরিবারসহ অবস্থান করায় বাকিরা দেশে ফেরেন। বিমানবন্দরে ক্রিকেটারদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালকরা। মিষ্টিমুখও করানো হয় ক্রিকেটারদের। বিমানবন্দরের উষ্ণ অভ্যর্থনা শেষে তালহা জুবায়ের ডারউইনের জয়কে স্মরণীয় হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাটিতে এভাবে আধিপত্য বিস্তার করে হারানো যেখানে তারা একটি সেশনেও আমাদের বিপক্ষে দাঁড়াতে পারেনি এটি অনেক বড় ব্যাপার। এটি বিশ্ব ক্রিকেটে একটি পরিষ্কার বার্তা যে আমরা যেকোনো পরিস্থিতি ও যেকোনো দলকে হারাতে পারি।’

বিদেশের মাটিতে পেস বোলারদের পারফরম্যান্সই জয়ের মূল চাবিকাঠি উল্লেখ করে তালহা পেসারদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন। তিনি জানান, প্রতিপক্ষের ২০টি উইকেট নেয়ার এই সক্ষমতা বজায় থাকলে ভবিষ্যতের সফরগুলোতে দল আরো আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে। ম্যাকাইয়ে দ্বিতীয় টেস্টের ব্যর্থতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, অসমান বাউন্স ও টসে হেরে যাওয়া ম্যাচের ফলকে অনেকটাই প্রভাবিত করেছে। ব্যাটসম্যানরা কিছুটা দায়িত্বশীল আচরণ করলে ফলাফল আরো ভালো হতে পারত। তবে এই সিরিজের অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ দল আরও সুদৃঢ অবস্থান তৈরি করবে বলেই বিশ্বাস কোচিং স্টাফদের।

তালহা যোগ করেন, ‘আমরা যে ভালো করে আসতে পেরেছি- এটি বড় ব্যাপার। অস্ট্রেলিয়াতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো একদমই সোজা কোনো ব্যাপার না। এখানে আমরা সবাই ভালো ফিল করছি। এখানে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, বিশ্বাস জন্মেছে যে যেকোনো দলকে হারাতে পারি- এটি জরুরি।’

পরের বছরেই আমাদের ডাকবে

এমন অর্জনের পর বাংলাদেশের প্রতি অস্ট্রেলিয়ার দৃষ্টিভঙ্গিও বদলাবে বলে মনে করছেন তালহা জুবায়ের। বিশ্বমঞ্চে এই অভাবনীয় পারফরম্যান্স শুধু ক্রিকেটপ্রেমীদেরই গর্বিত করেনি, বরং দলীয় আত্মবিশ্বাসকেও অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এই পারফরম্যান্সের সুবাদে আগামী বছরই অর্থাৎ ২০২৭ সালে আবারো অস্ট্রেলিয়া সফরে যাওয়ার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ।

তালহা বলেন, ‘সম্মান কতটা নিয়ে ফিরতে পেরেছি- এটি আপনারা বলতে পারবেন ভালো। যেকোনো সফরের আগে আমরা এগুলো বলে যাই, তবে বিশ্বাস করি যে আমরা ভালো কিছু করতে পারব। দল অনেক ভালো শেইপে আছে। সবাই বিশ্বাস করছে যে আমরা বাইরের দেশে গিয়েও ভালো করতে পারি।’

এরপরই ভবিষ্যৎ সফর নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তালহা বলেন, ‘আমার মনে হয় অস্ট্রেলিয়া পরের বছরই আমাদের ডাকবে। ডারউইন, ম্যাকাইতে ডাকবে না, আমরা ভালো ভালো ভেনুতে খেলতে পারব আশা করি।’

প্রস্তুতি ম্যাচে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স না হলেও মূল লড়াইয়ে নিজেদের সামর্থ্যরে ওপর আস্থা রেখেছিল দল, ‘অবশ্যই আলহামদুলিল্লাহ। আশা তো ছিলই অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারব। এই বিশ্বাস নিয়েই সবাই গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে প্রথম টেস্টের আগে ভালো প্রস্তুতি ছিল। সবাই মানিয়ে নিয়েছিল ভালোভাবে। অবশ্যই প্রস্তুতি ম্যাচে আমরা ভালো করতে পারিনি। সবাই, আপনারাও হয়তো একটু চিন্তিত ছিলেন যে কী হবে অস্ট্রেলিয়ার সাথে। কিন্তু আমাদের এই বিশ্বাস ছিল, ওইটা হয়তো বাজে দিন গেছে। আমরা যদি নিজেদের খেলাটা খেলতে পারি, ভালো কিছু করতে পারব। দেখেছেন সবাই, আমরা কিভাবে প্রথম ম্যাচে দাপট দেখিয়ে জিতেছি।’

ডারউইন টেস্টের ঐতিহাসিক জয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগও লুকাতে পারেননি তিনি। প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা শেষে জয়ের সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়ে উঠলেও চতুর্থ দিনে সেই স্মরণীয় মুহূর্ত বাস্তবে রূপ নেয়। তালহা বলেন, ‘কিছু অভিজ্ঞতা, কিছু ইমোশন এগুলো ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। অস্ট্রেলিয়াতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো, দুনিয়ার বড় বড় মিডিয়া যারা আছে, তারাও অনেক কিছু বলছে, তারাও এটি প্রকাশ করেছে।’