ফিরেই মোসাদ্দেক বোঝালেন ফুরিয়ে যাননি

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রায় চার বছর পর লাল-সবুজের জার্সিতে মাঠে নেমেই ব্যাটে-বলে বুঝিয়ে দিলেন ফুরিয়ে যাননি তিনি। গতকাল অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে তার অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে মুগ্ধ সবাই। ছয় নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে ৭০ বলে ৭ চার ও ৩ ছক্কায় দলীয় সর্বোচ্চ ৮৬ রানের ইনিংস খেলেছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ওয়ানডেতে এটি তার ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। এরপর বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ দুই উইকেট নিয়েছেন। অলরাউন্ড পারফরম্যান্স করায় ম্যাচসেরা হয়েছেন তিনি।

ওয়ানডেতে মোসাদ্দেকের অভিষেক ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে হলেও নানা কারণে জাতীয় দলে নিজের অবস্থান সেভাবে পাকাপোক্ত করতে পারেননি। এখন পর্যন্ত সবমিলিয়ে ম্যাচ খেলেছেন মাত্র ৪৪টি। অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে তিনি সর্বশেষ জাতীয় দলের হয়ে ওয়ানডেতে খেলেছিলেন ২০২২ সালের আগস্টে। জিম্বাবুয়ে ম্যাচের পর তার অপেক্ষা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়েছে। এ সময়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেকে বারবার প্রমাণ করেলেও জাতীয় দলে সুযোগ হয়নি।

সাবেক জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিলেন, যতক্ষণ মেহেদী হাসান মিরাজ আছে, মোসাদ্দেকের কোনো সুযোগ নেই। সেই মোসাদ্দেককে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের ওয়ানডে দলে রাখার মধ্যে দিয়ে দীর্ঘ চার বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটালেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন। কারণ হিসেবে জানিয়েছেন, ‘মোসাদ্দেক এই মুহূর্তে খুব ভালো ব্যাটিং করছে, ছয় নম্বরে তার স্কিলটা আরো বেশি কাজে লাগবে আমারে জন্য। সে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার, আগেও খেলেছে, প্রিমিয়ার লিগে ভালো ফর্মে আছে। তার অলরাউন্ড সক্ষমতা আমরা কাজে লাগব।’

চার বছর পর একটা ‘লাইফলাইন’ পেয়ে মোসাদ্দেক নিজেও মরিয়া ছিলেন। একাদশে সুযোগ পেয়েই নিজেকে মেলে ধরলেন। ঘরোয়া ক্রিকেটের মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও নজরকাড়া পারফরম্যান্স করলেন। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের ২২ গজের ময়দানে ব্যাট হাতে অজি বোলারদের শাসন করলেন দারুণভাবে। এরপর বল হাতে তুলে নিলেন গুরুত্বপূর্ণ দু’টি (কনোলি, রেনেশ) উইকেট। তার বোলিং ফিগার ১০-১-৩৭-২।

২০১৯ বিশ্বকাপের আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজে ২৭ বলে ৫২ রান ছিল এতদিন তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ। এ দিন করলেন ৮৬ রান। ৪৯ বলে ফিফটি করেন তিনি। পরের ওভারে অ্যাডাম জাম্পাকে টানা তিন বলে বাউন্ডারি মারেন। পঞ্চম উইকেটে তৌহিদ হৃদয়ের সাথে ৯০ বলে ৭৫ এবং অষ্টম উইকেটে তাসকিন আহমেদের সাথে ৩৩ বলে ৪৫ রানের জুটি গড়েন। ইনিংসের শেষ বল পর্যন্ত উইকেটে টিকে ছিলেন। তার কারণেই বাংলাদেশের দলীয় সংগ্রহ ৮ উইকেটে ২৮৪। অথচ তিনি যখন ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন তখন স্বাগতিকরে রান ছিল ২৫.৩ ওভারে ৪ উইকেটে ১৪০ রান।