জনকণ্ঠকে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম, ঘেরাও কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

Printed Edition
দৈনিক জনকণ্ঠের সাংবাদিকদের অবৈধভাবে ছাঁটাই ও বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ :  নয়া দিগন্ত
দৈনিক জনকণ্ঠের সাংবাদিকদের অবৈধভাবে ছাঁটাই ও বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ : নয়া দিগন্ত

দৈনিক জনকণ্ঠে সাংবাদিক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গণছাঁটাই, কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান, বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধে অনিয়ম, হয়রানি এবং পত্রিকা অফিস বন্ধ রাখার প্রতিবাদে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন সাংবাদিক নেতারা ও জনকণ্ঠের সাংবাদিক-কর্মচারীরা। এ সময় বক্তারা দাবি আদায়ে জনকণ্ঠ কর্তৃপক্ষকে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন এবং দাবি পূরণ না হলে পত্রিকা অফিস ঘেরাওসহ বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।

গতকাল দৈনিক জনকণ্ঠ সাংবাদিক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা সংহতি প্রকাশ করেন।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, জনকণ্ঠের কুকর্মের ইতিহাস অনেক পুরনো। অতীতে ক্ষমতার ছত্রছায়ায় থেকে তারা সাংবাদিকদের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন চালিয়েছে। সাংবাদিকদের চাকরি নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, অনেক সাংবাদিক এই প্রতিষ্ঠানের নির্যাতন, বঞ্চনা ও মানসিক চাপের শিকার হয়েছেন। আমরা আর কোনো সহকর্মীকে এভাবে নিপীড়নের শিকার হতে দেবো না। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম জনকণ্ঠ কর্তৃপক্ষকে আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ছাঁটাই, শোকজ, হয়রানি এবং অফিস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে।

সাংবাদিক-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায় সাংবাদিক সমাজ জনকণ্ঠ কার্যালয় ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে। আওয়ামী লীগের দোসর এবং ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীদের আশ্রয়স্থল হিসেবে জনকণ্ঠকে আর ব্যবহার করতে দেয়া হবে না।

ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনির জারিফ বলেন, জনকণ্ঠের সাংবাদিক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে যে অন্যায় চলছে তা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়; এটি পুরো গণমাধ্যম শিল্পের জন্য হুমকি। বছরের পর বছর যারা এই প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রেখেছেন, আজ তাদেরই রাস্তায় নামতে বাধ্য করা হয়েছে।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোহাম্মদ জসিম বলেন, জনকণ্ঠ কর্তৃপক্ষ যদি মনে করে ভয়ভীতি দেখিয়ে আন্দোলন দমন করবে, তবে তারা ভুল করছে।

সাংবাদিক সমাজ অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে জানে। তিনি বলেন, এই আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়; এটি ন্যায়বিচার, শ্রমিক অধিকার এবং পেশাগত মর্যাদা রক্ষার আন্দোলন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে এবং প্রয়োজনে আরো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, জনকণ্ঠের বর্তমান ব্যবস্থাপনায় এমন কিছু ব্যক্তি সক্রিয় রয়েছেন যারা আওয়ামী লীগপন্থী গোষ্ঠী ও বিদেশী প্রভাবের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাদের মাধ্যমে দেশপ্রেমিক সাংবাদিক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে প্রশাসনিক নিপীড়ন চালানো হচ্ছে বলেও তারা দাবি করেন।

তারা অবিলম্বে ছাঁটাই ও কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রত্যাহার, বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং পত্রিকা অফিস খুলে দেয়ার দাবি জানান। অন্যথায় জনকণ্ঠ কার্যালয় ঘেরাও, বিক্ষোভ ও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন। বিজ্ঞপ্তি।