প্র্যাক্টিক্যাল নম্বরের ভয় দেখিয়ে লাখ টাকা আদায়

Printed Edition

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার জেএমজি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২০২৬ সালের এসএসসি ব্যবহারিক পরীক্ষায় নম্বর কমিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। নিয়মবহির্ভূতভাবে আদায়কৃত এই লক্ষাধিক টাকার ভাগাভাগি নিয়ে কেন্দ্র-সংশ্লিষ্টদের মধ্যে চরম তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত সময়সূচি উপেক্ষা করে কেন্দ্র সচিব ও উপজেলা সহকারী প্রোগ্রামার সোহেল রানার নির্দেশনায় প্রথমে গত ৩ জুন পরীক্ষা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। পরে বিতর্ক সৃষ্টি হলে তা স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা হলেও অর্থ আদায় বন্ধ হয়নি। কোনো রসিদ ছাড়াই মানবিক বিভাগের পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১০০ টাকা এবং বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে আদায় করা হয়। এভাবে প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিজ্ঞান বিভাগের এক পরীক্ষার্থী জানায়, টাকা না দিলে প্র্যাক্টিক্যাল খাতায় স্বাক্ষর করা হবে না এবং নম্বর কমিয়ে দেয়া হবে বলে শিক্ষকরা ভয় দেখিয়েছেন।

এদিকে অবৈধ অর্থের ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ তৈরি হলে গত বৃহস্পতিবার ইউএনও কার্যালয়ে প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। তবে সেখানে অর্থ ফেরত বা শাস্তিমূলক কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। কেন্দ্র সচিব সোহেল রানা অর্থ আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, জেএমজি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোখলেসুর রহমান ও কয়েকজন শিক্ষক এ টাকা আদায় করে ভাগাভাগি করেছেন। তবে আমি এর অংশ নেইনি, কেবল সম্মানী হিসেবে পাঁচ হাজার টাকা পেয়েছি। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সহকারী প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

কুষ্টিয়া জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু তৈয়ব ইউনুছ আলী বলেন, বোর্ডের নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ নেই। দৌলতপুর ইউএনও অনিন্দ্য গুহ জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।