কী আছে প্যারাগুয়ের বোবাডিল্লার ভাগ্যে

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক নিউ ইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র থেকে

১৯৯৪ থেকে ২০২৬। মাঝে ৩২ বছরের গ্যাপ। তবে চিত্র একটিই। খেলা যুক্তরাষ্ট্রের মাঠে। আর আত্মঘাতী গোলও গেল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে। ১৯৯৪ সালে মার্কিনিদের বিপক্ষে ম্যাচে নিজ জালে বল ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন কলম্বিয়ান আন্দ্রেস এসকোবার। এতে সে আসরের স্বাগতিকদের জয় পাওয়ার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছিল। আর এবার প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডার ডামিয়ান বোবাডিল্লা নিজ জালে বল ঢুকিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বড় জয়ের ভিত্তি রচনা করতে সহায়তা করেছেন। ১৯৯৪ সালের সেই আত্মঘাতী গোলের জেরটা বড় করুণভাবেই টানতে হয়েছিল এসকোবারকে। নিজ দেশে ফেরার পর বাড়ির পাশের নাইট ক্লাবে এক কলম্বিয়ান তাকে গুলি করে হত্যা করেছিল। এবার কি প্যারাগুয়ের এই বোবাডিল্লার একই পরিণতি হবে দেশে ফেরার পর। তা সময়ই বলে দেবে। তবে আশার ব্যাপার হলো কলম্বিয়ার মতো মাদক এবং সন্ত্রাসের দৌরাত্ম্য নেই প্যারাগুয়েতে। লাতিন দেশটিতে হানাহানি, খুনাখুনির কথা কমই আসে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়। রাজনৈতিক অস্থিরতার খবরও পাওয়া যায় না।

১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াতে রোজ বোলে অনুষ্ঠিত হয়েছিল কলম্বিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচটি। সে আসরের ফেবারটি ছিল কলম্বিয়া। ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার পেলে পর্যন্ত বলেছিলেন ‘এবারের বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হবে কলম্বিয়া।’ লাতিন আমেরিকা থেকে বাছাই পর্বে তারা বেশ ভালো করেছিল। আর্জেন্টিনাকে তো বুয়েনস আইরিসের মাঠে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে। তবে বিশ্বকাপে এসেই অঘটনের শিকার। ১-২ গোলে হেরে যায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। আর এই হারের ভিত্তিটা রচিত হয়েছিল আন্দ্রেস এসকোবারের সেই আত্মঘাাতী গোলে। ৯৪ হাজার দর্শকের সামনে ৩৪ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের জন হারকেসের ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজ জালেই ঢুকিয়ে দেন দীর্ঘদেহী ডিফেন্ডার এসকোবার। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ইউএসএ ফুটবল দল ২-১-এ জিতে নেয়। এর আগের ম্যাচে কলম্বিয়া ১-৩ গোলে হেরেছিল রোমানিয়ার কাছে। নক আউটে খেলার আশা জিইয়ে রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে অন্তত ড্র করতে হতো কলম্বিয়ানদের। তা আর হয়নি। ফলে শেষ ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ২-০-তে জিতেও কোনো লাভ হয়নি। তিন পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের চতুর্থ দল হিসেবে বিদায় নিতে হয়েছিল কলম্বিয়াকে। আর কলম্বিয়াকে হারিয়ে ইউএসএ চলে যায় নক আউটে। সেখানে অবশ্য ব্রাজিলের কাছে ০-১-এ হেরে ছিটকে পড়া।

এরপর কলম্বিয়া ফুটবল দল দেশে ফেরার পরদিনই মেডিলিনের এক নাইট ক্লাবে গুলিতে প্রাণ হারাতে হয়েছিল এসকোবারকে। তা ওই আত্মঘাতী গোলটি করার অপরাধে। তখন দেশটির ফুটবল সংস্কৃতি ছিল মাফিয়াদের দখলে।

এখন প্রশ্ন এবার কী হবে প্যারাগুইয়ান ডিফেন্ডার ডামিয়ান বোবাডিল্লার। দেশে ফেরার পর কি তারও পরিণতি হবে এসকোবারের মতো। নাম করা গোলরক্ষক হোসে চিলাভার্টের দেশ প্যারাগুয়ে। ফুটবলে তারা ভালো অবস্থানে নেই। ২০১০ সালের পর আবার তারা বিশ্বকাপে। তাদের কাছে কারোরই কোনো প্রত্যাশা নেই বেশি কিছুর।

এরপরও ফুটবল জুয়াড়িরা যদি বোবাডিল্লাকে টার্গেট করে তাহলে হয়তো করুণ পরিণতি রবণ করতে হতে পারে এই স্টপার ব্যাকের।

গতকাল লস এঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ের এই ম্যাচ। খেলায় আর্জেন্টিনার প্রতিবেশী এই দেশটি যে এত বাজেভাবে ১-৪-এ হারবে তা কারোরই কল্পনাতে ছিল না। কিন্তু ৭ মিনিটে বোবাডিল্লার সেই আত্মঘাতী গোলই পাল্টে দেয় সব চিত্র। বিপক্ষ ফুটবলার ম্যাক কেনির বাড়ানো বল তার পায়ে লেগে দিক পাল্টিয়ে চলে যায় জালে। এতে খেই হারানো প্যারাগুয়ে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। আর বড় জয় দিয়েই এবারের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

প্যারাগুয়ের আশা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। আরো দুই ম্যাচ বাকি। সেখানে ভালো করতে পারলে নক আউটে খেলতে পারবে।