বাজেট ভাবনা শীর্ষক বৈঠক

জনগণের করের বাজেটে অপচয়ের অধিকার কারো নেই : মুফতি রেজাউল করীম

Printed Edition
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাজেট নিয়ে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন মুফতি রেজাউল করিম : নয়া দিগন্ত
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাজেট নিয়ে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন মুফতি রেজাউল করিম : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, জনগণের করের টাকায় বাজেট হয়, ঋণের বোঝাও জনগণের ওপরই চাপানো হয়। তাই বাজেট বাস্তবায়নে ছলচাতুরি, টালবাহানা, অপচয় ও যাচ্ছেতাই খরচ করার অধিকার কাউকে দেয়নি জনগণ।

গতকাল সোমবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির হলে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের আগামী অর্থ বছরের বাজেট; আমাদের ভাবনা ও জনগণের প্রত্যাশা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মুফতি রেজাউল করীম বলেন, বাংলাদেশে প্রায় এক কোটি মানুষ নিবন্ধিত করদাতা, যারা আয়ের ওপর কর দেন। তবে বাস্তবে দেশের সব মানুষই রাজস্ব দেন। প্রাত্যহিক ক্রয়-বিক্রয় ও বিভিন্ন সেবা গ্রহণের বিপরীতে সাধারণ মানুষ কর পরিশোধ করেন; এমনকি একজন ভিক্ষুকও পরোক্ষভাবে কর দেন।

তিনি বলেন, সরকার প্রতি বছর বাজেট পেশ করে এবং সংসদে তা পাস করিয়ে নেয়। কিন্তু বাজেট বাস্তবায়নে সরকারের যথাযথ নজরদারি, আমানতদারি ও জবাবদিহিতার ঘাটতি বরাবরই দেখা যায়। এর ফলে জনগণের কষ্টের টাকার বাজেটের একটি বড় অংশ অপব্যয় হয় এবং ক্রয় দুর্নীতির মাধ্যমে পাচার হয়ে যায়।

ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, বাজেট কেবল অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নয়; এটি জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার অঙ্গীকার। কিন্তু জনগণ বাজেটের সুবিধা কতটা পাচ্ছে, তা বিবেচনায় নেয়া হয় না। বাজেটে যে সুবিধা জনগণের পাওয়ার কথা বলা হয়, দুর্নীতিগ্রস্ত সামগ্রিক ব্যবস্থার কারণে তা জনগণের কাছে পৌঁছায় না।

তিনি আরো বলেন, বাজেট যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে শুধু নেতা নয়, নীতিরও পরিবর্তন ঘটাতে হবে। দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরিতে শরিয়াহ একটি কার্যকর উপায় হতে পারে।

আলোচনা সভায় সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, বাজেটে কওমি ও আলিয়া মাদরাসার জন্য উপবৃত্তি চালু, ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং গবেষণা খাতে বরাদ্দ প্রয়োজন। আমলাতন্ত্রের জটিলতা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমলাতন্ত্রের কারণে কোনো কাজই করা যায় না। এ জটিলতা দূর করতে শরিয়াহভিত্তিক সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই।

গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহ, চর্চার সম্পাদক ও সাংবাদিক সোহবার হোসেন, সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ, ক্যাবের কো-অর্ডিনেটর ইঞ্জিনিয়ার এম এ এম গোলাম কিবরিয়া, ইসলামিক চেম্বার অব কমার্সের সদস্য সচিব মাওলানা মোফাজ্জল ইবনে মাহফুজ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেখ আবদুল্লাহ নাসের, নিজাম গ্রুপের এমডি মোহাম্মাদ নিজাম উদ্দিন ও জয় গ্রুপের চেয়ারম্যান মুজিবর রহমান শামীম। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম ও অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ।