ক্রীড়া ডেস্ক
ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেন বলেছেন, ২০৩০ বিশ্বকাপে তিনি জাতীয় দলের হয়ে খেলবেন কি না, সে বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় আসেনি। আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে সেমিফাইনালে হৃদয়ভাঙা হারের পর তিনি জানান, আপাতত এই হতাশা কাটিয়ে ওঠাই তার প্রধান ল্য।
আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। মরগান রজার্সের ক্রস থেকে ৫৫ মিনিটে গোলটি করেন গর্ডন। তবে শেষ দিকে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। এনসো ফার্নান্দেস সমতা ফেরানোর পর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে লাউতারো মার্টিনেস জয়সূচক গোল করে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের ফাইনালে তুলে নেন। ফলে ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবার পুরুষদের বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন আবারো ভেঙে যায় ইংল্যান্ডের। ৩২ বছর বয়সী কেইন বলেন, এ নিয়ে এখনই কথা বলা খুব তাড়াতাড়ি হবে। আমি বছর ধরে এগোতে চাই এবং তখন নিজের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নেবো। ইংল্যান্ডের হয়ে খেলাই আমার সবচেয়ে বড় গর্ব। আগামী গ্রীষ্মে ৩৩ বছরে পা দেবেন কেইন। তবে ৩৯ বছর বয়সেও সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলতে থাকা আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি কখনো নিজের জন্য সীমা টানতে চাই না। তবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আরেকটি কঠিন হারকে মেনে নেয়া।’
চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ছয় গোল করেছেন কেন। শনিবার ফ্রান্সের বিপে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ থাকায় গোল্ডেন বুট জয়ের সম্ভাবনাও এখনো টিকে আছে। বর্তমানে আটটি করে গোল নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে।
হারের কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে কেইন বলেন, প্রথম ৬০ মিনিট ইংল্যান্ড দারুণ খেলেছিল এবং এগিয়েও ছিল। কিন্তু পরে বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে দল। আর্জেন্টিনা সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আক্রমণের গতি বাড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত ম্যাচ নিজেদের করে নেয়। তার মতে, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারাই সাম্প্রতিক কয়েকটি বড় টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা।
ডিফেন্ডার ড্যান বার্নও হতাশা লুকাতে পারেননি। তিনি বলেন, আমরা ম্যাচ পরিকল্পনা ভালোভাবেই বাস্তবায়ন করেছিলাম। কিন্তু এগিয়ে যাওয়ার পর অতিরিক্ত রণাত্মক হয়ে পড়ি। এত শক্তিশালী প্রতিপরে বিপে এমন ভুলের মূল্য দিতেই হয়। এই হার অনেক দিন তাড়া করবে। মিডফিল্ডার জুড বেলিংহ্যামও দলের লড়াইয়ের প্রশংসা করে বলেন, সতীর্থরা পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন।
তবে এত সুন্দর যাত্রার শেষটা এতটা কষ্টের হওয়ায় হতাশা আরো বেড়েছে। তার ভাষায়, আমরা চেয়েছিলাম বহু বছরের অপোর অবসান ঘটাতে। কিন্তু আবারো সমর্থকদের একই হতাশার গল্প শোনাতে হচ্ছে।



