নিজস্ব প্রতিবেদক
দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় দলটির ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারি বাসভবন যমুনায় গিয়ে সনদে স্বাক্ষর করে।
প্রধান উপদেষ্টার উপস্থিতিতে এনসিপির পক্ষে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন সনদে সই করেন। এ সময় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সাবেক সহসভাপতি (বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী) অধ্যাপক আলী রীয়াজ, কমিশনের সাবেক সদস্য বদিউল আলম মজুমদার এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন।
এনসিপির প্রতিনিধিদলে আরো ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা সারোয়ার তুষার, মনিরা শারমিন, জাবেদ রাসিন ও অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা।
‘সবার শেষে সই, বাস্তবায়নে সবার আগে’ : যমুনা থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দেয়া ‘নোট অব ডিসেন্ট’ ব্যতিরেকে এনসিপি সনদে স্বাক্ষর করেছে। সনদে দেরিতে সই করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা সবার শেষে স্বাক্ষর করলেও এই সনদের বাস্তবায়নে ছিলাম সর্বোচ্চ তৎপর। জনগণের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’
অন্যদিকে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘এই দলিল যেন নতুন বাংলাদেশকে একটি মানবিক বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিটি পদক্ষেপে দিকনির্দেশনা দেয়, সে জন্য আমাদের প্রতি মুহূর্তে সচেতন থাকতে হবে।’
প্রেক্ষাপট : ৭ মাসের আলোচনা, গণভোটে ‘হ্যাঁ’
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সাত মাস ধরে ৩৩টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সাথে ধারাবাহিক আলোচনার পর গত বছরের ১৭ অক্টোবর ঢাকায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে জুলাই জাতীয় সনদ, ২০২৫ স্বাক্ষর করে। ওই দিন ২৪টি দল সনদে সই করে; পরে আরো একটি দল যুক্ত হয়।
তবে এনসিপি শুরুতে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেয়নি। পরবর্তীতেও সই থেকে বিরত ছিল দলটি। যদিও কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, কোনো রাজনৈতিক দল চাইলে পরবর্তী সময়েও সনদে স্বাক্ষরের সুযোগ থাকবে।
এনসিপির ৩ শর্ত : সনদে স্বাক্ষর না করার কারণ ব্যাখ্যা করে আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনটি দাবি তোলে এনসিপি।
প্রথমত, ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এর খসড়া স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আগেই প্রকাশ এবং তা প্রধান উপদেষ্টার মাধ্যমে জারি করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, গণভোটে জনগণ সনদের পক্ষে রায় দিলে ‘নোট অব ডিসেন্ট’-এর কার্যকারিতা থাকবে না।
তৃতীয়ত, গণভোটের রায় অনুযায়ী পরবর্তী নির্বাচিত সংসদ সংবিধান সংস্কার করবে এবং সংস্কারকৃত সংবিধানের নাম হবে ‘বাংলাদেশ সংবিধান, ২০২৬’। এর মধ্যে গত ১৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ জারি করেন। ওই আদেশের অধীনে ১২ ফেব্রুয়ারি সনদের মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে সংবিধান সংশ্লিষ্ট ৪৮টি প্রস্তাবের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হয়।



