ক্রীড়া প্রতিবেদক যুক্তরাষ্ট্র থেকে
আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য স্ট্রাইকার লাউতারো মার্টিনেজ। ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে তার উইনিং গোল কলম্বিয়ার বিপক্ষে। এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৩ গোল তার। লিওনেল মেসি এবারের আসরে দু’টি পেনাল্টি মিস করলেও লাউতারো একটি পেনাল্টি থেকেই গোল করেছেন। এরপর সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে জয় নিশ্চিত করা দলের তৃতীয় গোল। আর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিতে হেডে জয়সূচক গোল।
ইংলিশদের বিপক্ষে এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির পাসকে সার্থক করলেন ইন্টার মিলানের এই স্ট্রাইকার। কাতার বিশ্বকাপ ছিল লাউতারোর প্রথম বিশ্ব ফুটবলের বড় মঞ্চে খেলা। সেই আসরে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন। মেসি ছাড়াও এনজো ফার্নান্দেজ, নাহুয়েল মলিনা, অ্যালেক্সিক ম্যাক অ্যালিস্টার, ডি মারিয়া ও জুলিয়ান আলভারেজরা গোল পেলেন। কিন্তু লাউতারো আর জালের সন্ধান পাননি। তাকে দিয়ে গোল করানোর অনেক চেষ্টাই করেছিলেন মেসি। তবে বল আর জালে পাঠাতে পারছিলেন না। কোনোটি বার উঁচিয়ে গেছে। কোনোটি বিপক্ষ কিপার প্রতিহত করেছেন। যদি তিনি কাতারের মাঠে স্কোর করতেন তাহলে চার-পাঁচটি গোল জমা হতো তার নামের পাশে; অথচ টুর্নামেন্ট শেষে নামের পাশে গোল সংখ্যা শূন্য। শুধু নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টাইব্রেকারে উইনিং গোলটি করারই কৃতিত্ব তার। কাতার বিশ্বকাপে তো এই গোল না পাওয়ার কারণে একাদশে জায়গা পর্যন্ত হারান। তার বদলে খেলতে নেমে জুুলিয়ান আলভারেজ চারটি গোল করেছিলেন। এবারো লাউতারো এই আলভারেজের জন্য প্রথম একাদশে খেলতে পারছেন না।
এবার যুক্তরাষ্ট্রের মাঠ আর হতাশ করেনি তাকে। গ্রুপ পর্বের ম্যাচে জর্দানের বিপক্ষে পেনাল্টিতে গোলে শুরু। সেই ম্যাচে তখন সাইড বেঞ্চে ছিলেন মেসি। তা না হলে মেসিই নিতেন পেনাল্টি শট। এরপর সুইসদের বিপক্ষে ডান পায়ের শটে গোল করার পর ইংলিশদের বিপক্ষে মেসির ক্রসে হেডে গোল।
এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে মেসির অ্যাসিস্টে ১২তম গোলদাতা হলেন তিনি। উল্লেখ্য, এনজো ফার্নান্দেজ হলেন একমাত্র ফুটবলার, যিনি মেসির পাস থেকে বিশ্বকাপে দু’টি গোল করেছেন। বাকিরা সবাই একটি বারই মেসির পাসে বল জালে পাঠাতে সক্ষম হয়েছিলেন।
কাতার বিশ্বকাপে লাউতারো দু’টি গোল অফসাইডে বাতিল হয়েছিল সৌদি আরবের বিপক্ষে। সৌদি আরব ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একাধিক সহজ সুযোগ থেকে গোল করতে ব্যর্থ হওয়ার এরপর একাদশে স্থান হারান। বদলি হিসেবে পরে খেলার সুযোগ পেতেন। মোট ৬ খেলায় তিনি মাঠে নামেন। ১০ বার তিনি পোস্ট শট নিয়েছিলেন। এর মধে অন টার্গেটে ছিল ৬টি। আর সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন ৫টি। তাকে এই পাসগুলোর অধিকাংশই দিয়েছিলেন মেসি। তার ব্যর্থতা কষ্ট দিচ্ছিল মেসিকেও। এখন নিশ্চই আর্জেন্টিনার অধিনায়কের সামনে বুক ফুলিয়ে কথা বলতে পারবেন লাউতারো।
অথচ লাউতারো মার্টিনেজ ১৭ গোল দিয়ে সিরি ‘আ’তে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন এই সিজনে। কাব জার্সিতে ২৬৭ ম্যাচে ১৩২ গোল তার। আর্জেন্টিনার হয়ে অবশ্য ৮৪ ম্যাচে ৪০ গোল আদায় করেছেন। এই যুক্তরাষ্ট্রের মাঠেই ২০২৪-এর কোপা আমেরিকায় ফাইনালে কলম্বিয়ার বিপক্ষে উইনিং গোল করাসহ মোট ৫ গোল দিয়ে জিতেছিলেন সর্বোচ্চ গোলদাতার গোল্ডেন বুট।
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে জুলিয়ান আলভারেজ ডান পায়ের বাকানো শটে দুর্দান্ত গোল করেছেন। এখন লাউতারোও গোল পাচ্ছেন। তাহলে নিশ্চিত ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে কোচ লিওনেল স্কালোনি একাদশে কাকে খেলাবেন এই নিয়ে চিন্তায় পড়ে যাবেন।



