তীব্র গরমে সুস্থ থাকাটা খুব জরুরি। তা না হলে হিট স্ট্রোকে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। গরমে অস্বস্তি দুর্ভোগের কারণ ঘটায়। তাই গরমে চনমনে থাকাটা জরুরি। কিছু সহজ উপায় অবলম্বন করে আপনি তা করতে পারেন। জ্যৈষ্ঠ/জুন মাসের এই ভ্যাপসা গরমে ও তীব্র দাবদাহে শরীর ঠাণ্ডা রাখতে এবং রোগবালাই থেকে দূরে থাকতে কিছু জরুরি নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত প্রয়োজন।
কী করবেন?
১. রোদের তীব্রতা থেকে বাঁচতে বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। এই সময়ে জরুরি প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে বের হলে ছাতা, সানগ্লাস কিংবা টুপি ব্যবহার করতে ভুলবেন না। এ ছাড়া বাইরে বের হওয়ার অন্তত ২০ মিনিট আগে ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে পারেন।
২. প্রচণ্ড গরম থেকে ঘরে ফিরেই হুট করে ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি খাওয়া কিংবা সাথে সাথে গোসল করার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। এই অসচেতনতার কারণে সর্দি-কাশি বা ঠাণ্ডা লাগার মতো শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারার ঝুঁঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়। শরীরকে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এনে তারপর পানি পান করা বা হাত-মুখ ধোয়া উচিত।
৩. গরমের ক্লান্তি দূর করতে এবং শরীরকে ভেতর থেকে শীতল রাখতে কোল্ড ফুট বাথ একটি দারুণ কার্যকরী উপায়। একটি বড় গামলায় ঠাণ্ডা পানি ও বরফের টুকরো নিয়ে কিছুক্ষণ পা ডুবিয়ে বসে থাকলে চমৎকার আরাম পাওয়া যায়। এই পানির সাথে সামান্য পিপারমিন্ট অ্যাসেন্সিয়াল অয়েল মিশিয়ে নিলে রিফ্রেশিং ভাব আরো বাড়ে।
৪. গ্রীষ্মের এই সময়ে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে বাড়তি নজর দেয়া উচিত। বাইরে থেকে ঘরে ফিরে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস জীবাণুর আক্রমণ থেকে শরীরকে সুরক্ষিত রাখে।
৫. শরীরে পানির ঘাটতি বা ডিহাইড্রেশন রোধ করতে সারা দিনে অন্তত ৮ - ১০ গ্লাস পানি পান করা বাধ্যতামূলক। শরীর পর্যাপ্ত হাইড্রেটেড থাকলে ক্লান্তিভাব অনেকটাই কমে যায় এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিকভাবে কাজ করে। ব্যস্ততার মধ্যেও পানি পানের কথা ভুলে যাওয়া চলবে না।
৬. এই তীব্র দাবদাহে আরাম পেতে ঢিলেঢালা এবং হালকা রঙের সুতির পোশাক পরিধান করুন। গাঢ় রঙের পোশাক তাপ শোষণ করে শরীরকে বেশি উত্তপ্ত করে তোলে, তাই হালকা রঙ বেছে নেয়াই শ্রেয়। আঁটসাঁট পোশাক এড়িয়ে চললে স্বস্তি মেলে।
৭. গরমের দিনে চর্বিযুক্ত ও অতিরিক্ত মসলাদার খাবার এড়িয়ে খাদ্যতালিকায় জলীয় অংশ বেশি থাকা ফল ও সবজি রাখা উচিত। তরমুজ, শসা, জামরুল বা ঝিঙের মতো খাবার শরীরকে ঠাণ্ডা রাখতে এবং পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এ ছাড়া প্রতিদিনের পাতে টকদই, দইয়ের শরবত রাখলে তা স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী হয়।
৮. শরীরকে সম্পূর্ণ চনমনে ও সতেজ রাখতে দৈনিক অন্তত ৭ - ৮ ঘণ্টা পর্যাপ্ত ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। গরমের কারণে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটলে শোবার ঘরটিকে যতটা সম্ভব ঠাণ্ডা ও আরামদায়ক রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। এর পাশাপাশি শরীরকে সচল ও রোগমুক্ত রাখতে নিয়মিত সকালে বা সন্ধ্যায় হালকা ব্যায়াম ও হাঁটাচলা করা প্রয়োজন। ইন্টারনেট।



