মাদকবিরোধী অভিযানে ধরাছোঁয়ার বাইরে মূল ডিলাররা

Printed Edition

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযানে মাদকসেবী ও ছোটখাটো বাহকেরা আটক হলেও মূল ডিলার ও গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। সচেতন মহলের অভিযোগ, কোটি টাকার এই মাদক কারবারের পেছনে রয়েছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট, যা রাজনৈতিক প্রভাব ও কিছু জনপ্রতিনিধির ছত্রচ্ছায়ায় পরিচালিত হচ্ছে। মূল হোতাদের বাদ দিয়ে শুধু সেবীদের আটকে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়।

এক সময়ের শান্ত এই উপজেলায় এখন গাঁজা, ইয়াবা, ট্যাফেন্ডাল ট্যাবলেট, ফেনসিডিল ও চোলাই মদের অবাধ বিস্তার ঘটেছে। মাদকাসক্তরা টাকা জোগাতে চুরি, ছিনতাই ও নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় সামাজিক অস্থিরতা ও পারিবারিক ভাঙন উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। পৌর এলাকার কাশিপুর, শিবনগর, আড়পাড়া, বলিদাপাড়াসহ উপজেলার বারোবাজার, মঙ্গলপৈতা, সাক বাজার ও সাদিকপুরের বিভিন্ন স্থানে মাদক ব্যবসায়ীরা নিরাপদ আস্তানা গড়ে তুলেছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এসব এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্যের সুবিধা পাইয়ে দেয়ার কারণে বড় ডিলাররা পার পেয়ে যাচ্ছে। গত শনিবার রাতে নদী পাড়ার নারী মাদক ব্যবসায়ী রুপালি খাতুনের বাড়িতে স্থানীয়রা মাদক বন্ধের দাবিতে গেলে তিনি দম্ভ করে বলেন, আমরা প্রশাসনকে মাসে ৬০ হাজার টাকা মাসোয়ারা দিয়ে ব্যবসা করি, কেউ কিছুই করতে পারবে না। এর কিছুক্ষণ পর সেখানে ওসিসহ পুলিশের একটি টিম উপস্থিত হলে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিতে থাকেন।

স্থানীয়দের দাবি, যুবসমাজ ও সম্ভাবনাময় প্রজন্মকে বাঁচাতে এখনই মাদকের উৎস ও মূল হোতাদের চিহ্নিত করে কঠোর ও নিরপেক্ষ আইনি পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন মাসোয়ারার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কালীগঞ্জ থানার কেউ মাদকের টাকা নিয়েছে; এমন প্রমাণ কেউ দিতে পারলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।