সংসদে মন্ত্রী

সরকার পাট ও বস্ত্রশিল্প পুনরুজ্জীবনে বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ঐতিহ্যবাহী পাট ও বস্ত্রশিল্পকে নতুন করে গতিশীল করতে বাজার সম্প্রসারণ, উৎপাদন বৃদ্ধি, রাষ্ট্রায়ত্ত মিল পুনরুজ্জীবন এবং দেশীয় সুতা ও ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের বিকাশে একযোগে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পরিবেশবান্ধব পাটপণ্যের ব্যবহার বাড়াতে আইন বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক বাজারে পাটজাত পণ্যের প্রচার, বন্ধ পাটকল ও বস্ত্রকল পুনরায় চালু, উন্নতমানের পাট উৎপাদন এবং মসলিন, খাদি ও নকশিকাঁথার মতো ঐতিহ্যবাহী শিল্পের উন্নয়নে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়নের তথ্য জাতীয় সংসদে তুলে ধরেছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বে সিলেট-৫ আসনের সদস্য খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আবুল হাসান এবং সরকারি দলের সদস্য খায়রুল কবির খোকনের পৃথক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান মন্ত্রী।

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বলেন, দেশের পাটশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি দেশী ও আন্তর্জাতিক বাজারে পাট ও বহুমুখী পাটজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে সরকার ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

তিনি জানান, দেশে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম মোড়কের কারণে সৃষ্ট পরিবেশ দূষণ কমাতে ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০’ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আইনটি কার্যকর করতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, পাট খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার পাট আইন, ২০১৭, জাতীয় পাটনীতি, ২০১৮ এবং চারকোল নীতি, ২০২২ প্রণয়ন করেছে। একই সাথে পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি বাড়াতে রফতানিকারকদের নগদ প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে।

পাটপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশনে ‘জুট প্রোডাক্ট কর্নার’ স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। এ ছাড়া বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, পাট অধিদফতর এবং জেডিপিসির যৌথ উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পাটপণ্যের মেলার আয়োজন করা হচ্ছে, যাতে দেশী-বিদেশী ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা যায়।

তিনি আরো জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে চলমান একটি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ বিতরণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে, যা পাটপণ্যের অভ্যন্তরীণ ব্যবহার বাড়াতে সহায়ক হবে।

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল পুনরুজ্জীবনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে ২০২০ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া পাটকলগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) অধীন ২৫টি পাটকলের মধ্যে এ পর্যন্ত ১৪টি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ইজারা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি ইতোমধ্যে উৎপাদনে ফিরেছে। বাকি মিলগুলোও পর্যায়ক্রমে ইজারা দেয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশীয় সুতা ও তাঁতবস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে সরকার একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

দেশীয় বস্ত্রশিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের অধীনে পাঁচটি বেসিক সেন্টারে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, একটি ফ্যাশন ডিজাইন ইনস্টিটিউট, দু’টি মার্কেট প্রমোশন সেন্টার, জামদানি পল্লী, ঢাকার মিরপুরে তাঁত বোর্ড কমপ্লেক্স নির্মাণ এবং মসলিন সুতা প্রযুক্তি ও মসলিন কাপড় পুনরুজ্জীবন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়সহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও সংসদকে জানান বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রশিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।