বিশেষ সংবাদদাতা
রফতানি বাজার সম্প্রসারণ ও নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২৭টি দেশে ৫০টি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় অংশ নেবে বাংলাদেশ। একই সাথে ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার প্রক্রিয়া আরো সহজ করতে সরকার বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী ও রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। গতকাল ইপিবির ১৪৯তম পরিচালনা পর্ষদের সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতির বিকাশ, নতুন বিনিয়োগ সৃষ্টি এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে সরকার বাস্তবমুখী উদ্যোগ নিয়েছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুকূল ব্যবসায়িক পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ চলছে এবং আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই এর বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাবে। তিনি বলেন, ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার বিভিন্ন প্রক্রিয়া আরো সহজ ও দ্রুত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশকে আরো আকর্ষণীয় বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।
রফতানি খাতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, চামড়া, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংসহ যেসব খাতকে অগ্রাধিকারভিত্তিক রফতানি খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলোর প্রত্যেকটিরই দ্বিঅঙ্কের প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে বড় রফতানি খাতে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, নতুন উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপদের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে দেশের বড় রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেকেই একসময় ছোট পরিসরে কার্যক্রম শুরু করেছিল। তাই তরুণ উদ্যোক্তাদের বিদেশী ক্রেতাদের সাথে সংযোগ স্থাপন, আন্তর্জাতিক বাজারে অংশগ্রহণ এবং রফতানি সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া হবে।
নতুন উদ্যোক্তাদের অনেকেরই বিদেশে গিয়ে বাজার অনুসন্ধান বা সম্ভাব্য ক্রেতাদের সাথে যোগাযোগের আর্থিক সক্ষমতা থাকে না। এ সময় তাদের সরকারি সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। ইপিবি এ ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
সভায় রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর ব্যবস্থাপনায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা ক্যালেন্ডার অনুমোদন দেয়া হয়। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ১২টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত রফতানি খাতকে গুরুত্ব দিয়ে বিশ্বের ২৭টি দেশে মোট ৫০টি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।
এ ছাড়া সভায় ৩১তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা (ডিআইটিএফ)-২০২৭ আয়োজনের জন্য স্টিয়ারিং কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। আগামী বছরের ১ জানুয়ারি মেলার সম্ভাব্য উদ্বোধনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিচালনা পর্ষদের সভায় বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার (বিসিএফইসি) ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
সভায় বাণিজ্য সচিব মো: আতাউর রহমান খান, ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তারসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।



