এম মনিরুজ্জামান রাজবাড়ী
ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় ইউরোপ যেতে চেয়ে দালালের প্রতারণায় ভারতে আটকে পড়েছিলেন জাহাঙ্গীর হোসেন। সেখানে চেন্নাই শহরের একটি মুরগির খামারে শ্রমিক হিসেবে কাজ করার পর দেশে ফেরার সময় খামারি তাকে দুই জোড়া বিদেশী মুরগি উপহার দেন। সেই উপহারকে সম্বল করে রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের বড় বাংলাট গ্রামের জাহাঙ্গীর এখন সফল খামারি। তার ‘কালুখালী ফ্যান্সি মুরগির খামার’ থেকে খরচ বাদে মাসে আয় হচ্ছে ৬০-৭০ হাজার টাকা।
আর্থিক অনটনে কলেজের পড়ালেখা শেষ করতে না পারা জাহাঙ্গীর ২০০৮ সালে মালদ্বীপে গিয়ে সুবিধা করতে না পেরে ২০১১ সালে দেশে ফেরেন। পরে ইউরোপের আশায় ছয় লাখ টাকা দিয়ে দালালের খপ্পরে পড়ে চেন্নাই যান। এক বছর সেখানে কাজ করার পর উপহার পাওয়া চায়নার সিল্কি ও কলম্বিয়ার ব্রাহামা জাতের মুরগি নিয়ে দেশে এসে খামার গড়ার সিদ্ধান্ত নেন। ২০০৬ সালে যুব উন্নয়ন থেকে নেয়া প্রশিক্ষণকে কাজে লাগিয়ে ২০১২ সালে অনলাইনে ও ঢাকার খামারিদের পরামর্শে বাণিজ্যিকভাবে খামার শুরু করেন।
বর্তমানে আট লাখ টাকা ব্যয়ে পাঁচটি শেড নির্মাণসহ খামারে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন তিনি। ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর জন্য তার ইনকিউবেটর মেশিনও রয়েছে। খামারে ভিয়েতনামের দংতাও জাতের এক জোড়া মুরগির দাম প্রায় দেড় লাখ টাকা। এ ছাড়া তুরস্কের সিলভার ওয়েন ডট, আমেরিকার ব্রাহামা, সেব্রাইট গোল্ডেনসহ ৭০-৭৫ প্রজাতির বিদেশি মুরগি রয়েছে, যার প্রতি জোড়া ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ টাকায় বিক্রি হয়। খামারে আরো রয়েছে ময়ূর ও দামি বিদেশি হাঁস।
খামারটি দেখতে ফরিদপুর, গোয়ালন্দসহ বিভিন্ন জেলা থেকে দর্শনার্থী ও যুবকেরা আসছেন। কালুখালী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম রতন জাহাঙ্গীরের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে নিয়মিত ভ্যাকসিন ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এ ধরনের খামার বেকারত্ব দূরীকরণে দৃষ্টান্ত হতে পারে।



